নাটোরে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় যুবদল নেতা নিহত
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৭
নাটোরের বড়াইগ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীকে হামলায় এবার নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর চাচা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার মাস্টার (৩৩) খুন হয়েছেন এবং ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় স্থানীয় মেরিগাছা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক শনিবার বড়াইগ্রাম উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার মাস্টারের স্ত্রী রিক্তা মারা যান। শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর চাচা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার মাস্টার তার ১০/১২ জন কর্মী-সমর্থকসহ শ্বশুড় বাড়ির একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় মেরিগাছা বাজারের পাশে হাইস্কুলের পিছনে নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বকুলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের উপর দুই দিক থেকে হামলা চালায়। হামলায় আবুল বাশার মাস্টার, সেলিম (২৫), জিন্নাহ (৩০), বাবলু (৩৫) মোস্তাফা (৩০) ও তাজুল (২৯) গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় হামলাকারীরা আহত আবুল বাশার মাস্টারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েও জখম করে। তার পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। পরে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, হামলাকারী নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বকুল মেরিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন। নিহত আবুল বাশার একই স্কুলের কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। সমপ্রতি বকুল সভাপতির পদ থেকে গোপনে পদত্যাগ করে ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেন। এর পরপরই তাকে রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মারপিট করে। এই মারপিটের অভিযোগে বকুল বাদী হয়ে নিহত আবুল বাশার মাস্টারসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা করেন। এর জের ধরেই শুক্রবারের এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর চাচা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার মাস্টারকে বাবুর মতো একই কায়দায় হত্যার নিন্দা ও দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহত বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর বাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার ডক্টর নাহিদ হোসেন বলেছেন, এটা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। সমপ্রতি রাস্তায় পাট শুকানোর একটি ঘটনা নিয়ে স্থানীয় নসিমন চালকদের সাথে তার বিরোধ ছিল। এ ঘটনায় নিহত বাশারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও ছিল। এসব বিরোধেই বকুল হোসেনদের উপর হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।