চীনে মাইক্রোব্লগিং মনিটরিংয়ে নিয়োজিত ২০ লক্ষ কর্মী

সময়টা ইন্টারনেটের হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশই ইন্টারনেটকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এসব দেশের মধ্যে শুরুতেই আসবে চীন। ফেসবুক তো বটেই, সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য অনেক সাইটই চীনে ব্যবহারের সুযোগ নেই। সরকারিভাবে অবশ্য অনেক ওয়েবসাইট ব্লক করার খবর স্বীকারও করা হয় না। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম কীভাবে দেশটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, সে বিষয়েও তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না সরকারিভাবে। তবে এবারে চীনের সরকারি সংবাদসংস্থা বেইজিং নিউজ জানাচ্ছে, দেশটিতে মাইক্রোব্লগিং সাইটসহ অন্যান্য ওয়েবসাইটে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের গতিবিধি মনিটরিংয়ের জন্য সরকারিভাবে ২০ লক্ষাধিক কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। ‘ইন্টারনেট ওপিনিয়ন অ্যানালিস্ট’ পদধারী এসব কর্মীরা সাধারণত কোনো ধরনের পোস্ট ডিলিটের কাজ করে না। বরং তারা সারাদিনে ইন্টারনেটে যে ধরনের কথাবার্তা চলে, তার সারসংক্ষেপ তৈরি করে এবং প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়। বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, এসব কর্মীদের মূল কাজটাই হচ্ছে মাইক্রোব্লগিং সাইটসহ অন্যান্য ওয়েবসাইটে যে জনমতগুলো তৈরি হয়, সেগুলো একত্রিত করা। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে করা পোস্টগুলো মুছেও দেওয়া হয় সরকারি উদ্যোগেই। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়েব মনিটরিংয়ে যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো অত্যন্ত উচ্চমানের এবং সেগুলোর ব্যাকআপে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতার সব সার্ভার। ধারণা করা হচ্ছে, এই ২০ লক্ষাধিক কর্মী চীনের সামরিক বাহিনীর অধীনে কাজ করে থাকে। কেননা, ওয়েব নিয়ন্ত্রণের কাজে চীন তাদের সামরিক বাহিনীকেই ব্যবহার করে থাকে। বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, এ মাসের ১৪ তারিখ থেকে ১৮ তারিখে ওয়েব মনিটরিংয়ে যুক্ত কর্মীদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। অনলাইন পোস্টিংগুলোর বিশ্লেষণ করা শেখানোই হবে এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।