‘সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে জাদুঘর: ঐতিহ্যের ভবিষ্যত্’ এ শ্লোগান নিয়ে গতকাল নানা আয়োজনে পালিত হলো আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস। জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান এ উত্সবের উদ্বোধন করেন। এরপর জাদুঘর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পাশাপাশি জাদুঘর ভবনের তৃতীয় তলায় নতুন করে সাজানো ২৩ নম্বর অস্ত্রশস্ত্র গ্যালারি উদ্বোধন করা হয়। পরে জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘আমার দেখা জাদুঘর’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং নতুন কলেবরে মুদ্রিত জাদুঘরের ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘জাদুঘর সমাচার’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এছাড়া, ‘নলিনীকান্ত ভট্টশালী: বাংলার প্রত্নগবেষণায় একনিষ্ঠ সাধক’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনেওয়াজ। আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন এবং ফোকলোরবিদ ও বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, লেখক ও গবেষক আলী ইমাম, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সোনিয়া নিশাত আমিন। স্বাগত ভাষণ দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনেওয়াজ বলেন, নলিনীকান্ত ভট্টশালী ছিলেন একজন ইতিহাসবেত্তা, প্রত্নতত্ত্ববিদ, মুদ্রাবিজ্ঞানী, লিপিবিশারদ ও প্রাচীন বিষয়াবলী সম্পর্কে বিখ্যাত পন্ডিত। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বহু অস্পষ্টতা অপসারণে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। ১৯১৪ সালে তিনি সদ্যপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। আজকের জাতীয় জাদুঘরের ভ্রূণ ছিল এই ঢাকা জাদুঘর। প্রত্ন বস্তু সংগ্রহ, শ্রেণিকরণ, এসবের ঐতিহাসিকতা নিশ্চিতকরণ ও শৈলী বিচারের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি উত্তরসূরিদের এগিয়ে চলার সোপান তৈরি করে দিয়েছিলেন। তাঁর জীবন তর্পণ ও কর্ম সংরক্ষণের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে প্রজন্ম প্রণোদিত হবে।
অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, নলিনীকান্ত ভট্টশালীর দীর্ঘ ৩৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি জাদুঘরের বিশাল সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। আমাদের উচিত নলিনীকান্ত ভট্টশালীর আদর্শ নীতি নিয়ে জাদুঘর নিয়ে কাজ করা, গবেষণা করা এবং জাদুঘরকে আরো সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করা।
শামসুজ্জামান খান বলেন, জাদুঘরের প্রতিটি নিদর্শন অত্যন্ত সুন্দর ও সুপরিকল্পিতভাবে প্রদর্শন করা। জাদুঘর পরিদর্শন করলে আমরা জানতে পারি আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে এবং আমাদের ভেতরে আরো জানার আগ্রহ তৈরি হয়।
সোনিয়া নিশাত আমিন বলেন, নলিনীকান্ত ভট্টশালী ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি মনে প্রাণে কাজ করতেন প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে, গবেষণা করতেন, প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহ করতেন দূর দূরান্ত থেকে। তার মতো মানুষকেই কেবল প্রত্নতত্ত্বের সাধক বলা সাজে।
আলী ইমাম বলেন, জাতি হিসেবে বাংলাদেশের আছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। জাদুঘর হচ্ছে সংস্কৃতির প্রতিরূপ। নলিনীকান্ত ভট্টশালীর প্রচেষ্টার জন্যই আমরা আজকের এই জাদুঘরটি পেয়েছি। একটি দেশের জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে জানা যায় ঐ জাতি ঐতিহাসিকভাবে কতটা সমৃদ্ধ।