যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত

চলমান আর্থিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে একই কারণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার এশিয়া সফর বাতিল করেন। বারাক ওবামা এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কংগ্রেস সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনে দীর্ঘায়িত রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। খবর বিবিসির। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল শনিবার পঞ্চম দিনের মতো সরকার ব্যবস্থা অচল হয়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বি-পক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা ও চুক্তির লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ইইউর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী মাইকেল ফ্রম্যান ইইউকে জানান, আর্থিক ও কর্মী সঙ্কটের কারণে ব্রাসেলসে পূর্ণাঙ্গ আলোচক দল যুক্তরাষ্ট্র পাঠাতে পারবে না। এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ওয়াশিংটন ইইউর সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে বলেন ফ্রম্যান। অবশ্য এর জন্য সরকারের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ইইউর বাণিজ্য কমিশনার ক্যারেল দে গুচ। এই বিলম্বকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। বারাক ওবামা রেডিওতে এক সাপ্তাহিক ভাষণে দেশটির রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, আপনার এই শাট ডাউন বন্ধ করার জন্য ভোট দিন। বিপক্ষে নয়। গতকাল ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) সম্মেলনে কেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সঙ্গে চলমান বিতর্ক আমাদের গণতন্ত্র কতোটা শক্তিশালী তার একটি দৃষ্টান্ত। অচলাবস্থার নিরসনে কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন আমরা নিজেদের কার্যক্রম নির্ধারণে একমত হতে পারি না, তখন আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রকে কিভাবে দেখা হবে তা একবার ভেবে দেখুন। অচলাবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব বিভাগ কার্যালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ (ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল) শাখার প্রায় সব কর্মী কাজ হারিয়েছে। এ শাখা থেকেই ইরানের মতো দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা তদারক করা হয়। এছাড়া অচলাবস্থা চললে ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অর্থ এবং সিনাই উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষা মিশনে তহবিল সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে বলে জানান তিনি। এই অবস্থা চলতে থাকলে তার পরিণতির বিষয়ে কেরি বলেন, এটা দীর্ঘায়িত হলে বা এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হবে।