আবার ইতিহাস গড়তে চান সোহাগ
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪১
তিন বছর আগে বাংলাদেশ যখন বিশ্ব কাঁপিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করে; তিনিও তখন আমার-আপনার মতো মাঠের বাইরে বসে খেলা দেখে রোমাঞ্চিত হয়েছিলেন, আনন্দে চিত্কার করেছিলেন। আর দশজনের মতোই টেলিভিশনের সামনে বসে চিত্কার করে সাকিব-রাজ্জাকদের সঙ্গী হয়েছিলেন। আর দশ জন আম-দর্শকের সঙ্গে তার পার্থক্য একটাই ছিল—সে সময়ও তার চোখে ছিল স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামে অনুশীলন শেষে তিন বছর আগের সেই স্বপ্নবাজ ‘সাধারণ ছেলেটি’ যখন সাংবাদিকদের সামনে এলেন, তখন তিনি সাকিব-রাজ্জাকদের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে সেই জাতীয় দলেরই অংশ। সেই জাতীয় দলেরই অন্যতম ভরসা সোহাগ গাজী।
সোহাগ খুব ভালো করেই জানেন যে, সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ দলের অভাবনীয় পারফরম্যান্সের কারণেই এবার তাদের ওপর প্রত্যাশার চাপ থাকবে। আর ঘরের মাঠে আরেকবার ওই ধরনের কীর্তি ঘটাতে চাইলে স্পিনার হিসেবে তাকেও নিতে হবে চাপের সিংহভাগ। সোহাগ অবশ্য এই ব্যাপারটায় চাপের কিছু দেখছেন না। তিনি মনে করছেন স্বাভাবিক খেলা খেললেই ফল বাংলাদেশের পক্ষে আসবে, ‘আমাদের মাঠে খেলা, আমরা যদি আমাদের মতো করে বোলিং-ফিল্ডিং-ব্যাটিং ভালো করে করতে পারি, তাহলে আশা করি প্রথম টেস্টের ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে। আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। সর্বশেষ সিরিজে আমরা নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছি, এবারও সেটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব।’
সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইলে সোহাগকে অনেক প্রত্যাশাই পূরণ করতে হবে। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকের বর থেকে এই অফস্পিনার বাংলাদেশের অন্যতম বোলিং ভরসা হয়ে উঠেছেন। এখন পর্যন্ত ৬ টেস্টে ২৬ ও ৮ ওয়ানডেতে ১১ উইকেট নিয়ে ফর্মটা ধরে রেখেছেন। ফলে প্রত্যাশা থাকবে সোহাগ সেরকম কিছু করবেন।
অবশ্য সোহাগ নিজেকে নির্ভার রাখতেই কি না, প্রত্যাশার চাপে থাকার কথা অস্বীকারই করলেন। তিনি বরং বললেন, রাজ্জাক ও সাকিবের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছেন তিনি। ফলে দলের জুনিয়র হিসেবে তিনি নির্ভারই থাকতে পারবেন, ‘আমি কোনো কিছুতেই চাপ নেই না। আর রাজ্জাক ভাই, সাকিব ভাইরা আছেন। আমিই তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, শেয়ার করেছি অনেক কিছু। তারা আমাকে পরামর্শ দিচ্ছেন, ইতিবাচক থাকতে বলেছেন। আমাদের স্পিনারদের লক্ষ্য থাকবে ভালো একটা জায়গায় বোলিং করা, ভালো চ্যানেলে বোলিং করা। বাকিটা দেখা যাক।’
জুনিয়র হিসেবে হয়তো এই ভারটা বইতে হবে না। কিন্তু প্রত্যাশার চাপটা একেবারে উড়িয়ে দেন কী করে সোহাগ। বিশেষ করে প্রতিপক্ষে যখন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আছেন! না, ম্যাকালামের সঙ্গে সোহাগের কোনো ইতিহাস নেই। আছে ম্যাককালামের মতোই বা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে আটকে রাখার ইতিহাস। টানা দুই টেস্ট ও পাঁচ ওয়ানডে ধরে গেইলের হাত পা বেঁধে রাখা সোহাগের এবার চ্যালেঞ্জ হবে নিশ্চয়ই ম্যাককালাম?
সোহাগ নির্বিকারভাবে ম্যাককালামকে সামলাতেও যেন প্রস্তুত, ‘গেইলকে নিয়েও অমন পরিকল্পনা ছিল না। আমি আমার মতোই বোলিং করার চেষ্টা করেছি। এই সিরিজেই একই পরিকল্পনা থাকবে। শুধু ম্যাককালাম নয়, সবারই ভিডিও দেখছি আলাদা আলাদা করে। কার কোনটা দুর্বল দিক, কোনটা শক্তির দিক। সেভাবেই অনুশীলন করছি। চেষ্টা করব কাজে লাগানোর।’ সেটা কাজে লাগাতে পারলেই তো হয়।