ওয়াকারের সমালোচনা করলেন ইউসুফ

প্রকাশ্যে ওয়াকার ইউনুসের সমালোচনা করলেন মোহাম্মদ ইউনুস। পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক আরও জানিয়েছেন, পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশা তিনি পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং তার সকল আশা শেষ হয়ে গেছে। লাহোরে গত শনিবার ইউসুফ বলেন, ‘কখনো কখনো আমার মনে হয় এই সিনিয়র খেলোয়াড়রাই আমাদের ক্রিকেটের বড় সমস্যা। ওয়াকার আমাদের ক্রিকেটের অনেক ক্ষতি করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ওয়াকার আমার কিংবা রাজ্জাকের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করেননি। তিনি আমাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেননি। আমাদেরকে মাঠের বাইরে রেখে তিনি কেবল পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতেরই ক্ষতি করেছেন। কারণ আমি জানি আজও আমি দেশের হয়ে অন্তত টেস্ট খেলতে পারতাম।’ তিনি জানিয়েছেন, তার প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এমনকি অবসর নেয়ার পরও একে অপরের সহায়ক ছিলেন কিন্তু তিনি পারতেন না। ইউসুফ বলেন, ‘ওয়াকারের মত তাদের অনেকেরই খুব বেশি ইগো সমস্যা ছিল। ২০১০ সালের সফরে আমি আনফিট হলাম। কিন্তু কোন খেলোয়াড় আনফিট হয় না? তার মানে কি যে আমি আর কখনো ফিট হব না, আবার খেলব না? তারপর আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি এবং আমার ফিটনেস প্রমাণ করেছি। কিন্তু নির্বাচকরা ধারাবাহিকভাবেই আমাকে অবহেলা করতে থাকল।’ ৩৯ বছর বয়সী ইউসুফ দীর্ঘদিন পাকিস্তান ক্রিকেটের সেবা করলেও অদূর ভবিষ্যতে আর পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশা না করার বিষয়টি পরিষ্কার করেন। সুনামের সঙ্গে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেও পারেননি তিনি। এমনকি ক্রিকেট বোর্ডও তাকে একটা বিদায় দেয়নি কিংবা তার স্বীকৃতিও দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি এখন আর ক্রিকেট দেখি না এবং আমার নজর এখন আর ক্রিকেটের ওপর নেই। আমার জন্য ক্রিকেট অধ্যায় শেষ।’ তিনি বলেন, ‘আমার কোন ক্ষোভ নেই। তবে হ্যা এটা আমার জন্য অত্যন্ত বেদনার। কিন্তু সে সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গেও এমন ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল আমিই প্রথম এমন অবস্থার মুখোমুখি হইনি।’ ইউসুফ বলেন- বোর্ডের বর্তমান ম্যানেজমেন্টের আমলে কোন পদ কিংবা কোন দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন না। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের কোচ কিংবা পরামর্শক হিসাবে সাহায্য করতে তিনি প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ বলেন, ‘এটা অত্যন্ত খারাপ পদ্ধতি এবং এরা সিনিয়রদের সঙ্গে সঠিক ব্যবহার করে না। আমি এর অংশ হতে চাই না।’ ৯০ টেস্টে ৫২ গড়ে মোট ৭৫৩০ এবং ২৮৮টি ওয়ানডেতে ৯৭২০ রান করা ইউসুফ সর্বশেষ পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন ২০১০ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য তিনি ফিট আছেন এমন ইচ্ছা প্রকাশ করলেও নির্বাচকরা তাকে দলের বাইরে রেখেছেন। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন- তার যেটা দুঃখ তা হলো বোর্ড কিংবা নির্বাচকরা কেউই তার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেননি এবং কি কারণে তাকে দলে রাখা হয়নি তাও তাকে বলা হয়নি। সে সময় পাকিস্তান দলের ব্যাটিং সমস্যা ছিল তাতে তার ইউনিসের কোন সন্দেহ ছিল না। ফলো করার মত কোন রোল মডেল পাচ্ছিল না দলের তরুণ খেলোয়াড়রা। তিনি বলেন, ‘সাঈদ আনোয়ার, জাভেদ মিয়াদাঁদ, সেলিম মালিক এবং ইনজামামের মত খেলোয়াড়দের আমি ফলো করতাম। টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা আজ তাদের রোল মডেলদের ফলো করছে না।’ -বাসস