‘শিল্পাচার্য সর্বভারতীয় শিল্পযাত্রার অগ্রপথিক’

‘শিল্পাচার্য ছিলেন বাংলাদেশের শিল্পযাত্রার অগ্রপথিক। তারচেয়েও বড় পরিচয় উপমহাদেশের শিল্পধারায় যে ভাবালু, রোমান্টিকতার চর্চা চলছিল জয়নুল আবেদিন সেই চিন্তা থেকে বেরিয়ে বাস্তবের থরথর কম্পমান রূপটি ক্যানভাসে তুলে এনেছেন। এই ধারা সৃষ্টির মধ্যদিয়ে তিনি সর্বভারতীয় শিল্পযাত্রার দিক পরিবর্তন করেছিলেন। শিল্পাচার্য তাই শুধু বাংলাদেশেরই নয় সর্বভারতীয় শিল্পযাত্রার অগ্রপথিক।’ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে প্রকাশিত বিশ্বমানের স্মারকগ্রন্থের লেখক অধ্যাপক আবুল মনসুরের মূল্যায়ন এটি। বাংলাদেশের চারুকলা আন্দোলনের পথিকৃত্ এবং শিল্প-সংস্কৃতির পুরোধা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘বেঙ্গল ফাউন্ডেশন’ ও ইতালির আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্কিরা’ যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘গ্রেট মাস্টারস অব বাংলাদেশ: জয়নুল আবেদিন’ শীর্ষক এই স্মারকগ্রন্থ। বাংলাদেশের শিল্পধারা সৃষ্টির এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্বের অবদান ও কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতেই বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগ নিয়েছে। বইটি ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই প্রকাশ করা হয়েছে। ইংরেজি বইটি বিশ্বের প্রতিটি মিউজিয়ামে ও বড় বড় শহরের বুকস্টলগুলোতে পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত করার আগে গতকাল রবিবার হোটেল র্যাডিসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত শিল্পীর জন্মশতবর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আমাদের চিত্রকলায় একজন পথিকৃত্। বাংলাদেশের চিত্রকলায় বর্তমানে যে জীবনঘনিষ্ঠ চেতনা, সামাজিক অঙ্গীকারের মূর্ত প্রকাশ আবার একইসঙ্গে আধুনিকতা বোধে উজ্জল, তা তারই অবদান। যে জাতি তার কৃতী সন্তানদের যত বেশি সম্মান দেখাবে, সে জাতি তত বেশি আলোকিত হবে, সবার কাছে সম্মানিত হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা ও জয়নুল আবেদিনের স্ত্রী জাহানারা আবেদিন। সভাপতিত্ব করেন বরেণ্যশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, জয়নুল আবেদিনকে বিশ্বের শিল্পবোদ্ধাদের সামনে তুলে ধরবার এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। গ্রন্থটি বাংলাদেশের শিল্পকলার ইতিহাস জানতে এবং সেই ইতিহাস পুনর্জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্বকে জানতে সহযোগিতা করবে। রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেন, শিল্পের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের জন্মগত টান। এই শিল্পধারার গুরু জয়নুল আবেদিনকে তুলে আনা হয়েছে এ গ্রন্থে। জয়নুল আবেদিন বাস্তবাদী ছবি আঁকতেন। তাঁর ছবি গ্যয়া, পিকাসোর মত বিশ্বের শিল্পবোদ্ধাদের নজড় কাড়বে এতে সন্দেহ নেই। জাহানারা আবেদিন বলেন, জয়নুল আবেদিন আমার মানুষ নন। তিনি দেশের। তিনি আজীবন দেশের জন্য, শিল্পের জন্য কাজ করেছেন। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জয়নুল আবেদিন না থাকলে আমি শিল্পী হতে পারতাম না। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। এত বড় মাপের শিল্পী অথচ তাঁর জন্মশতবর্ষে এসে একটি আন্তর্জাতিক মানের বই পেলাম। আবুল খায়ের বলেন, এটি শিল্পাচার্যের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য। আমাদের এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে তার মত ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চেষ্টা। লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া। স্কিরার সঙ্গে বইটি প্রকাশ করার ফলে বিশ্বের সকল বিখ্যাত মউিজিয়ামে, বিশ্বের সকল বড় শহরের বইয়ের দোকানে বইটি পাওয়া যাবে। গ্রন্থটিতে জয়নুল আবেদিনের অনেক দুষ্প্রাপ্য চিত্রকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরা মিলে সেই সব ছবি সত্যায়িত করেছেন। ইংরেজি বইটির মূল্য ১০০ ডলার, আর বাংলা গ্রন্থটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৭০ টাকা।