আগারগাঁও এলাকায় গরুর হাট ৪ হাসপাতালে চিকিত্সা ব্যাহত
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৫
রাজধানীর আগারগাঁও ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের কাছে কোরবানির গরুর হাটকে কেন্দ করে ঐ এলাকার চারটি হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হয়। স্বজনরা মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় নিদারুণ দুর্ভোগের শিকার হন।
প্রতি কোরবানির ঈদের সময়ই হাসপাতালে আগত রোগী, কর্তব্যরত চিকিত্সক, নার্স ও কর্মচারীরা পড়ে যান বিপাকে। বহু বছর ধরে এ অবস্থার শিকার হয়ে আসছে তিনটি হাসপাতালের চিকিত্সক ও রোগীরা। গত দুই বছর ধরে এ ভোগান্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছে নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের নাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীদের সুচিকিত্সার বৃহত্তর স্বার্থে ও হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষার্থে সিটি কর্পোরেশন যেন ঐ এলাকায় গরুর হাট না বসান। কর্তৃপক্ষ বহুবার চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, একটি গরুর হাটের জন্য চারটি হাসপাতালে আগত শত শত মুমূর্ষু রোগীর চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষ যেন এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সেজন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রতি বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন তবু এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে ইজারাদারের ব্যবসায়িক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, গরু হাটের কারণে হাসপাতালের প্রবেশ গেট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। এখানে গরুর হাট না বসলে নগরবাসীর কোরবানি তো বন্ধ হবে না। রাজধানীতে আরো বেশ কয়েকটি গরুর হাট বসে। সিটি কর্পোরেশনের উচিত ছিল ঠিকাদারী ব্যবসার বদলে রোগীদের চিকিত্সার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া।
ইনস্টিটিউট নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, গত বছর হাসপাতালের সামনে গরুর হাট দেয়ার ফলে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হয়। সিটি কর্পোরেশন এখানে আর গরুর হাট দেবে না বলে তখন জানিয়ে ছিল। কিন্তু এবছর সিটি কর্পোরেশন আবারো একই স্থানে গরুর হাট বসানোয় অনুরূপ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে রোগীরা। বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়ে কোন সুফল পাওয়া যায়নি। তবে এবছর এখানে গরুর হাট চালু হলে ডাক্তার, নার্স, কর্মচারীরা হাসপাতালে কাজ বন্ধ রাখবে বলে তিনি হুমকি দেন।
পঙ্গু হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আউয়াল রিজভি, চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল হক দীন মোহাম্মদ ও ঢাকা শিশু হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, ঐ এলাকায় গরুর হাট বসায় কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে রোগীরা দুর্ভোগের শিকার হয়। তারা এখানে গরুর হাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে আসলেও কোন ফল হয়নি।
সিটি কর্পোরেশন (উত্তর) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, আগারগাঁও বহু দিন ধরে গরুর হাট বসে আসছে। নগরবাসীর সেবার জন্য দেয়া হয়। বাণিজ্যের জন্য এখানে গরুর হাট দেয়া হয়নি। রোগীদের কোন ধরনের সমস্যা না হয় সেই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়ে রোগীদের কোন চিকিত্সা ব্যাহত হয় এমন ঘটনা হলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালের পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে। সিটি কর্পোরেশন থেকে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।