রেলের বুকিং ক্লার্ক খুন

সহকর্মীদের দিকে সন্দেহের তীর

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট বুকিং ক্লার্ক মো. ইসরাফিল (৬০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। জড়িতদেরও শনাক্ত করতে পারেনি। তবে পুলিশ ধারণা করছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে সহকর্মীরাই তাকে হত্যা করেছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে ইসরাফিলকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার এবং রেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গতকাল দুপুরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন রেল ষ্টেশনের বুকিং কর্মকর্তারা। প্রায় পৌনে ১ ঘন্টা পর রেলওয়ের চীফ কমান্ডার ফারুক আহমেদের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান আন্দোলনকারীরা। ইসরাফিল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হত্যার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে রেলের টিকেট কালোবাজারি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারির মধ্যেও রাখা হয়েছে। এছাড়া টাকা লুটের উদ্দেশ্যে বহিরাগত দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি-না তাও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে জিআরপি থানা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র্যাব ও সিআইডি মামলাটির ছায়া তদন্ত করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডে ৩/৪ জন অংশ নেয়। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই ইসরাফিলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার কক্ষে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে যারা অংশ নিয়েছিল তারা ইসরাফিলের পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ ছিল। এ কারণেই ঘাতকরা সহজেই ইসরাফিলের কক্ষে প্রবেশ করে। এবং কমলাপুর এলাকায় টিকেটের জন্য অবস্থানকারী হাজারো মানুষের উপস্থিতিতেই ইসরাফিলকে হত্যার পর ঘাতকরা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রেলওয়ের ডিআইজি সোহরাব হাসান বলেন, আগামী দুই তিন দিনের মধ্যেই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। কয়েকজনকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কিছু বাধ্যবাধকতার কারণেই এখনই তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। এদিকে ইসরাফিলকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার এবং রেলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবীতে কর্মবিরতি এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুকিং সহকারী নাসির উদ্দিন বলেন, ইসরাফিল হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, বুকিং কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে। স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ইসরাফিল খুন হওয়ার পেছনে নিরাপত্তা কর্মীদের গাফিলতি আছে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।