শংকা আছে তবুও নির্বাচনমুখী সবাই
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৪
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে জনগণ, রাজনীতিবিদ এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পর্যন্ত শংকায় রয়েছে। কী ঘটবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে? নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে তো?
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ তো করবেই না, বরং এ ধরনের নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। অর্থাত্ নির্বাচনকালে বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকবেন।
সরকারি ও বিরোধী দলের এমন পরস্পর বিরোধী অবস্থানের মধ্যে উভয় দলই সভা-সমাবেশ করছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৮টি বিভাগীয় সফরে তার পূর্ব নির্ধারিত জনসভা ইতিমধ্যে শুরু করেছেন। ৫টি জনসভা শেষ হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের জনসভাসহ ৩টি জনসভা বাকি আছে। এসব সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি বার বার ব্যক্ত করে দলীয় সরকারের অধীনে যে কোন নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও তার জনসভাগুলোতে নির্বাচনী প্রচারের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্ব স্ব এলাকার জনসভায় ফেস্টুন, প্লাকার্ডসহ কর্মীবাহিনী নিয়ে যোগ দিচ্ছেন। এতে জনসভাগুলোতে যতই গরম বক্তৃতা হোক, মাঠের আমেজ কিন্তু নির্বাচনমুখী। প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীই বিপুল উদ্যমে সমর্থক-কর্মী সংগ্রহ করে জনসভার কলেবর বৃদ্ধি করছেন। কিন্তু একদিকে এই নির্বাচনী আমেজ, অন্যদিকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের ঘোষণা জনমনে শংকাও সৃষ্টি করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্কে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত তিনি বিরোধী দলের সঙ্গে কোন এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন- তার সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য এ ধরনের ইঙ্গিত বহন করছে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে কেবল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সিদ্ধান্তে তিনি এখনও অনড়। এ পরিস্থিতিতে মূলত সরকারি ও বিরোধী দলের কৌশলগত কারণেই জনমনে এখনও আগামী নির্বাচন নিয়ে শংকা বিরাজ করছে।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ২৪ অক্টোবরের পর কঠোর আন্দোলন শুরু করবে বলে বার বার হুমকি দিলেও এখনও কোন কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। বেগম খালেদা জিয়া তার ৮টি জনসভার শেষ জনসভা করবেন ঢাকায়। ইতিমধ্যে দাবি পূরণ না হলে তিনি ঐ জনসভা থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সে আন্দোলন কেমন হবে, কতটা সহিংস হবে, রাজধানী কি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে সমগ্র দেশ থেকে? এমন সব শংকার মধ্যেও নির্বাচনী প্রচারণা থেমে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকালও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিভাগীয় সফরের জনসভাগুলোতেও ছিল দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শো ডাউন। বেগম খালেদা জিয়ার যাত্রাপথেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ প্রভৃতির মাধ্যমে তার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তাই আগামী নির্বাচন প্রশ্নে জনগণ এখন শংকা আর নির্বাচনমুখিতার একটা দ্বান্দ্বিক আবহের মধ্যে কালাতিপাত করছে। পথে-ঘাটে, শহরে-বন্দরে নানামুখী বৈঠকী আলাপচারিতায়ও এ আবহ দৃশ্যমান।