এটিএম বুথের সামনে নিরাপত্তাকর্মী খুন
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে (২৪) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোর ৫টার পর কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত এনামুল নিরাপত্তারক্ষী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলিট ফোর্সের’ একজন কর্মী ছিলেন। চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাসাবো এলাকা থেকে আব্দুল আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ছায়াবীথি প্রজেক্টের একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। লাশ দু’টি উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ডাচ বাংলা এটিএম বুথের সামনের ফুটপাতে এনামুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে নির্ণয় করা যায়নি বলে জানান ওসি।
তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, হত্যার ঘটনাটি রহস্যজনক। দুর্বৃত্তরা নিরাপত্তাকর্মী এনামুলকে হত্যা করলেও তার কাছ থেকে কিছুই নেয়নি। এমনকি এটিএম বুথ থেকেও কোনো টাকা ?লুটের ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার পর এটিএম বুথ থেকে টাকা লুটের পরিকল্পনা ছিল দুর্বৃত্তদের। কিন্তু লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় তারা। এর বাইরে অন্য ব্যক্তিগত শত্রুতার বা অন্য কোন কারণ আছে কিনা-তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এলিট ফোর্সের পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এনামুল ও এরশাদ নামের দুই কর্মী ওই বুথের দায়িত্বে ছিলেন। কর্মীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে কিনা- দেখার জন্য আমাদের নিয়মিত টহল দল আছে। সর্বশেষ ভোর ৪টার দিকে তারা জানায়, ওই বুথের সব ঠিক আছে। মোহাম্মদপুর থানার টহল পুলিশও ভোর ৫টার আগে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বুথের সামনে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পায়নি বলে ওসি জানান।
ওই বুথের দায়িত্বে থাকা এলিট ফোর্সের দ্বিতীয় কর্মী এরশাদ জানান, তিনি বুথের ভেতরে ছিলেন। এনামুল বাইরে থেকে তালা দিয়ে বুথের সামনে বসে ডিউটি করছিলেন। এরশাদ বলেন, ঘুমিয়ে পড়ার কারণে তিনি কিছু বুঝতে পারেননি। পরে উঠে বুঝতে পারেন, বুথের সামনে রাস্তায় লোক জমে গেছে। কিন্তু তালা বন্ধ থাকায় তিনি ভেতর থেকে বাইরেও আসতে পারছিলেন না। পরে এনামুলের পকেট থেকে চাবি নিয়ে পুলিশ গেট খুলে দিলে তিনি বের হন এবং এনামুলের মৃতদেহ দেখেন। নিহত এনামুলের পিতার নাম আবদুর রশিদ। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তারাইলের ভাওয়াইলে। ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিংয়ে থাকতেন।
এদিকে রাজধানীর বাসাবো এলাকা থেকে আব্দুল আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এলাকাবাসী জানায়, আব্দুল আলী ছায়াবীথি প্রজেক্টের ১৬ নাম্বার বাসার নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবুল মিয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন সকালে থানা পুলিশকে খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। লাশের ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।