খন্দকার মাহবুবকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের শোকজ নোটিস

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রবিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই রুল জারি করেন। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে খন্দকার মাহবুব হোসেনকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও উচ্চ পদ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ায় তাকে সশরীরে হাজির হতে হবে না বলে আদেশে বলা হয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, খন্দকার মাহবুব বক্তব্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষীসহ গোটা বিচারপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হয়েও তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকসহ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিচারসংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে হুমকি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য স্পষ্ট হুমকি এবং এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেনের দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এ নোটিস জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত ঐ সাংবাদিক সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই বিচারটি একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ইনশাআল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা প্রতিহিংসার জন্য যাদের বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে। এ বক্তব্যের পর গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। ঐদিন শুনানি শেষে আজ রবিবার আদেশের দিন ধার্য ছিলো। খন্দকার মাহবুব হোসেনের প্রতিক্রিয়া: এদিকে আদালত অবমাননার নোটিস জারির পর এক প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আমার বক্তব্যে বিচারকদের সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। কেননা বিচারক কোন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন না। তিনি থাকেন নিরপেক্ষ। মামলার বাদী, বিবাদী এবং যারা সাক্ষী দেন, তারাই ওই মামলায় সম্পৃক্ত থাকেন। বিচারক মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শুনে তা পর্যালোচনা করে রায় দেন। তার রায় বাদীপক্ষের সাক্ষ্যপ্রমাণের উপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, আমাদের দণ্ডবিধি আইনেও আদালতে মিথ্যা মামলা এবং সাক্ষী দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই ভবিষ্যতে যদি দেখা যায় যে, মিথ্যা মামলা তৈরি করে এবং মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে ট্রাাইব্যুনালে কাউকে সাজা দেয়া হয়েছে, তবে অবশ্যই আইনত তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। আমি ট্রাইব্যুনাল বা বিচারকদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করিনি। আমার বক্তব্য বিকৃত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।