এইচএসসি পরীক্ষার সমাজবিজ্ঞান
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৩৪
সমাজবিজ্ঞান
মোহাম্মদ হেদায়েত উল্যাহ, প্রভাষক সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ তোমাদের জন্য সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় আলোচনা করব যা তোমাদের জানা থাকা অতি প্রয়োজন। প্রত্যয়গুলো জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন হিসেবে কিংবা উদ্দীপকের বিষয় হিসেবেও পরীক্ষায় আসতে পারে। তোমাদের মনে রাখতে হবে সমাজবিজ্ঞানের যে কোন প্রত্যয় লিখতে হবে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়। কেননা সমাজবিজ্ঞানের অনেক প্রত্যয়ের সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত তাই পরীক্ষার খাতায় একটা গতানুগতিক সংজ্ঞা দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে পরিবার,বিবাহ কিংবা রাষ্ট্র বুঝে তোমাদের সেভাবে বুঝলে চলবে না। তোমাদের বুঝতে হবে এবং বুঝাতে হবে সমাজবিজ্ঞানে আলোকে। কেননা তুমি সমাজবিজ্ঞান পড়ছো।
মূল্যবোধ
মূল্যবোধ বলতে সমাজে বিদ্যমান ধ্যান-ধারণাকে বুঝায়।সমাজের অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখানে বিবেচ্য। মানুষের দীর্ঘ দিনের সামাজিক সম্পর্কের মধ্যেই এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আর. টি. শেফার বলেন, ভালো বা মন্দ, কাঙ্ক্ষিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ঠিক বা বেঠিক সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ। কোন কাজটি সমাজের জন্য কাঙ্ক্ষিত কোনটি অনাকাঙ্ক্ষিত তা সম্পর্কে সমাজের বিদ্যমান ধারণা।সমাজ ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
ভৌগোলিক পরিবেশ
ভৌগোলিক পরিবেশ বলতে চারপাশের ভৌত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন-জলবায়ু ও তাপমাত্রা, মৃত্তিকা ও জলের অবস্থান,বনাঞ্চল, পশুপক্ষী, ঋতু, মধ্যাকর্ষণ শক্তি,ঝড়বৃষ্টি, ভূমিকম্প ইত্যাদিকে বুঝায়। মূলত মানবসৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ বাদে সবই ভৌগোলিক পরিবেশের উপাদান। সরোকিন ভৌগোলিক পরিবেশ বলতে সে সব মহাজাগতিক উপাদানকে বুঝিয়েছেন যা মানবসৃষ্ট নয় এবং যা নিজের নিয়মেই পরিবর্তিত হয়। ভৌগোলিক উপাদান মানুষের সমাজ জীবনের উপর ব্যাপক প্রভাব রাখে।
সংস্কৃৃতি
সহজ অর্থে সংস্কৃতি বলতে মানুষের সৃষ্টিকর্মকে বুঝায়। ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি হল মানুষের জীবন প্রণালী (life style)। সমাজের সদস্য হিসাবে মানুষের অর্জিত আচরণ। আর. টি. শেফারের মতে সমাজ থেকে অর্জিত এবং সামাজিকভাবে উত্তরসূরীদের মধ্যে বর্তায় এমন আচরণসমূহের
সামগ্রিক রূপই সংস্কৃতি। টেইলর সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, শিল্পকলা, রুচিবোধ, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আদর্শ প্রভৃতির জটিল সমন্বয়কে সংস্কৃতি বলে অভিহিত করেছেন। সুতারাং সংস্কৃতি হল মানুষের সৃষ্ট আচার-আচরণের সামগ্রিক রূপ এবং তা সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করতে হয়।
বস্তুগত ও অবস্থাগত সংস্কৃতি
সংস্কৃতি বস্তগত ও অবস্থাগত এ দু’উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানব সৃষ্ট বস্তুগত উপাদান বা আবিষ্কারকে বুঝানো হয়। মানুষ নিজের প্রয়োজনে যে সব বস্তুগত উপাদান সৃষ্টি করেছে তা-ই এর আওতাভুক্ত।এই অর্থে কলকারখানা, যন্ত্রপাতি, হাতিয়ার,মানবশ্রম প্রভৃতি বস্তুগত সংস্কৃতি। অবস্থাগত সংস্কৃতি বলতে মানবসৃষ্ট অবস্তুগত উপাদানকে বুঝানো হয়। আইন,ভাষা,আদর্শ, মূল্যবোধ, সংগীত, সাহিত্য,শিল্পকলা প্রভৃতি অবস্থাগত সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। বস্তুগত সংস্কৃতি বাহ্যিক এবং তা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে।অন্যদিকে অবস্থাগত সংস্কৃতি অভ্যন্তরীণ এবং তা মন্থর গতিতে পরিবর্তিত হয়।
বংশগতি
মানুষ জীব জগতের সদস্য। জীব জগতের সদস্য হিসেবে ব্যক্তির মধ্যে তার পূর্ব পুরুষের জৈবিক ধারা সদা বর্তমান ও ক্রিয়াশীল।দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য উত্তরাধিকারী সূত্রে পরবর্তী বংশে বর্তিয়ে থাকার প্রক্রিয়াই বংশগতি। শারীরিক গড়ন,গায়ের রং,চুলের ধরণ,রক্তের গ্রুপ,জ্ঞান ও পারদর্শিতা, রোগ-ব্যাধি, চলাফেরার ধরণ প্রভৃতি উত্তরাধিকার সূত্রে পিতা-মাতা থেকে সন্তানদের মধ্যে বর্তিয়ে থাকে।ব্যক্তি জম্মগতভাবে পিতা-মাতাসহ পূর্ববর্তীদের এসব গুলাবলি অর্জন করে যা তার সমাজ জীবনকে প্রভাবিত করে।