মণ্ডপে মণ্ডপে উত্সবের আমেজ
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৫
মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা সাজানোর কাজ। বাজারে চলছে কেনা-কাটার ধূম। পরিবারে চলছে শারদীয় দুর্গোত্সবের হিসেব নিকেশ। আর ক’দিন বাদেই চুড়ান্ত রূপ পাবে দুর্গোত্সব। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পূজোর খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
গাইবান্ধা
চলতি বছর গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় ৫৫০টি মণ্ডপ-মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১০০টি, সুন্দরগঞ্জে ১২২টি, গোবিন্দগঞ্জে ১০৬টি, সাদুল্লাপুরে ৯৩টি, ফুলছড়িতে ১৭টি, সাঘাটায় ৫৮টি এবং পলাশবাড়ি উপজেলায় ৫৪টি মণ্ডপ।
মাগুরা
মাগুরা জেলার ৫৬৫টি পূজামণ্ডপে এ বছর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা শহর ও শহরতলিতে ১২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া থানাপাড়া, জামরুল তলা, তাঁতীপাড়া, পারনান্দুয়ালী, বটতলা, চরপাড়া, আঠারখাদা, লিচুতলা, বৈদ্য বাড়ি, শিবরামপুর, কামারপাড়া, কুকনা।
বান্দরবান
এবার জেলায় ছোট-বড় ৭১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে মন্দির কমিটি। জেলার সাত উপজেলায় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গা উত্সব উদযাপন কমিটির ব্যানারে ২৬টি মন্দিরে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো প্রায় ৪৫টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলায় ১১টি, রোয়াংছড়িতে ২টি, রুমায় ১টি, থানছিতে ১টি, লামায় ৬টি, আলীকদমে ৩টি, নাইক্ষ্যংছড়িতে ২টি মণ্ডপে কেন্দ্রীয় দুর্গাপূজা উত্সব উদযাপিত হবে। এছাড়াও লামা উপজেলার কেন্দ্রীয় হরি মন্দির, বগাইছড়ি কমিউনিটি সেন্টার হরি মন্দির, ইয়াংছা রাম মন্দির, আজিজ নগর তেলুনিয়া পাড়া হরি মন্দির, পূর্ব হায়দার নাশী উত্তর হিন্দুপাড়া হরি মন্দির, নারা খোলা হরি মন্দির, পাগলী আগা পাড়া পূজা মণ্ডপ, চম্পাতলী লোকনাথ হরি মন্দির, আলীকদম উপজেলার হরিমুখ হরি মন্দির, নাইক্ষ্যংছড়ি কেন্দ্রীয় সার্বজনীন হরি মন্দিরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও
জেলায় ৪২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮০টি, পীরগঞ্জে ১১১টি, রাণীশংকৈলে ৪৮টি, হরিপুরে ২০টি ও বালিয়াডাঙ্গিতে ৬২টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে। এবছর সরকারিভাবে মণ্ডপপ্রতি ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
নরসিংদী
এ বছর নরসিংদী জেলায় মোট ২৯৬টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় ৮১টি, পলাশ উপজেলায় ৪১টি, শিবপুর উপজেলায় ৬৫টি, বেলাব উপজেলায় ২২টি, মনোহরদী উপজেলায় ৩৭টি ও রায়পুরা উপজেলায় ৫০টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা দেয়া হয়েছে। এ চাল সমানভাবে সকল পূজা মণ্ডপে বিতরণ করা হবে।
নেত্রকোনা
এবার জেলায় ৪৩০টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রশাসন থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনিস মাহমুদ জানান, জেলা প্রশাসন থেকে সকল উপজেলায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ইউএনওদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ)
মানিকগঞ্জে এ বছর জেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি উপজেলায় ৪৫৪টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে মানিকগঞ্জ পৌরসভায় ২২টি, সদর উপজেলায় ৭১টি, দৌলতপুরে ৩৯টি, সাটুরিয়ায় ৬৩টি, হরিরামপুরে ৬০টি, শিবালয়ে ৭২টি, ঘিওর ৬৭টি, সিংগাইর উপজেলায় ৪৮টি ও পৌর এলাকায় ১২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা উপলক্ষে এবার জেলায় ১৮৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৪০০ কেজি চাল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মণ্ডপ প্রতি ৭৪৫০ টাকা করে দেয়া হচ্ছে।
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
হোসেনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌসভায় ১৮টি মণ্ডপে পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীর প্রতিমাকে রঙ-বেরঙের তুলির আঁচড় দেয়া হচ্ছে। দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে শিল্পীরা।
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম)
নাগেশ্বরীতে ৭২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপে তৈরি ও সাজ-গোজের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে আয়োজকরা।
মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
এ বছর মীর্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ২২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুবল চন্দ্র দেবনাথ জানান, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা ও আইন-শৃংখলা রক্ষার বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মান্দা (নওগাঁ)
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে মোট ১১১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১২টি মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারশোঁয় ১৬টি, ভালাইনয়ে ৭টি, পরানপুরে ২টি, মান্দায় ৯টি, গনেশপুরে ৩টি, মৈনমে ৯টি, প্রসাদপুরে ৮টি, কুশুম্বায় ১৩টি, তেঁতুলিয়ায় ২০টি, নুরুল্যাবাদে ৭টি, কালিকাপুরে ৫টি, কাঁশোপাড়ায় ১টি, কশব ইউনিয়নে ২টি, বিষ্ণুপুরে ৯টি।
কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)
কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ২১৮টি মণ্ডপে পূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ে চলছে রঙের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলো হচ্ছে কাশিয়ানী বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দির, শ্মশানঘাট পূজা মন্দির, শ্রীদাম উড়াকান্দি হরি চাঁদ ঠাকুর পূজা মন্দির, রামদিয়া সার্বজনীন পূজা মন্দির, রাহুথর মজুমদার বাড়ি পূজা মন্দির, শিংগা মল বাড়ি পূজা মন্দিরসহ মোট ২১৮টি।
মোরেলগঞ্জ (্বাগেরহাট)
মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার মোট ৭২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সার্বজনীন ৬৬টি এবং পারিবারিকভাবে ৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে থাকবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবছর পৌর সদরের কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দির, চাউলা পট্টি সাধক রামপ্রসাদ মন্দির, সেরেস্তাদারবাড়ী নবারণ সংঘে ও ছোলমবাড়িয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা ও কালিমন্দিরে সবচেয়ে বড় পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১টি, তেলিগাতীতে ৪টি, পঞ্চকরণে ৩টি, পুটিখালীতে ১টি, দৈবজ্ঞহাটিতে ১টি, রামচন্দ্রপুরে ৩টি, চিংড়াখালীতে ৭টি, হোগলাপাশায় ৬টি, বনগ্রামে ১০টি, বলইবুনিয়ায় ৩টি, হোগলাবুনিয়ায় ২টি, বহরবুনিয়ায় ৩টি, জিউধরায় ৬টি, নিশানবাড়ীয়ায় ২টি, বারইখালীয় ৩টি, খাউলিয়ায় ৬টি। পৌর সদরের ভিভিআইপি তিনটি পূজামণ্ডপে ৯৭৮ কেজি চাল, ভিআইপি পূজামণ্ডপের ৬টিতে ৬০০কেজি করে চাল, ৫৭টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপে ৪৭০ কেজি করে এবং পারিবারিক ৬টি পূজামণ্ডপে ২৮০ কেজি করে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পৌর এলাকা ও ৬টি ইউনিয়নে ৪৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে মূর্তি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। মণ্ডপগুলো হচ্ছে কটিয়াদী পৌরসদরে ১৫টি, করগাঁওয়ে ২টি, ধূলদিয়ায় ৪টি, বনগ্রামে ৭টি, মুমুরদিয়ায় ৬টি, মসূয়ায় ৪টি ও আচমিতা ইউনিয়নে ৬টি।
হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ)
হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এবার ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নৈপুণ্য আর তুলির আঁচড়ে প্রলেপ দিয়ে উজ্জ্বল করে তুলছে মা দুর্গা দেবীকে।
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এ বছর পৌরসভায়-২২টি, সদর ইউনিয়নে-২টি, কুল্লাগড়ায়-২টি, চন্ডিগড়ে-৬টি, বিরিশিরিতে-৯টি, বাকলজোড়ায়-৯টি, কাকৈরগড়ায়-৪টি, গাঁওকান্দিয়ায়-৩টিসহ মোট ৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে পৌরসভায়-৫টি, চন্ডিগড়ে-২টি, বিরিশিরিতে-২টি, বাকলজোরায়-২টি, মোট ১১টি মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মনে করেন পূজা উদযাপন পরিষদ।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
এ বছর দুটি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে মোট ১৭০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই পূজার জন্য সরকারি অনুদান দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আনসার-ভিডিপিসহ পুলিশ সদস্য।
ঝিনাইগাতী (শেরপুর)
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১৫টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি মণ্ডপ সরকারি অনুদানের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
হোমনা (কুমিল্লা)
হোমনা উপজেলার ৩৪ মণ্ডপে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্ততি চলছে। এর মধ্যে সাতটি মণ্ডপকে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো: ডুমুরিয়া, জগন্নাতকান্দি, শ্রীনগর, কাশিপুর, শ্যামপুর, রঘুনাথপুর ও মনিপুর মতিলাল সাহার বাড়ি।