লাইব্রেরি বিড়ম্বনায় কুবি শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১০
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। লাইব্রেরির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আচরণ এই বিড়ম্বনার কারণ বলে জানান শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ও লাইব্রেরির এক কর্মচারীর লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে ঐ শিক্ষার্থী ঘটনার দিনই ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে মৌখিক অভিযোগও করেন।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। তবে প্রথম থেকেই এর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অবস্থা খুবই শোচনীয়। প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তলার একটি রুম নিয়ে গড়ে ওঠা লাইব্রেরিতে আসন সংখ্যা মাত্র ২৮টি। মোট ৩৬টি শেলফে বই এতই নগণ্য যে, শিক্ষার্থীরা দিন দিন লাইব্রেরি বিমুখ হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে এখানে ১৪টি বিভাগের জন্য বইয়ের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। কাগজে কলমে পনেরোটি জাতীয় দৈনিক ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা রাখার কথা থাকলেও মূলত শিক্ষার্থীরা পান মাত্র আটটি পত্রিকা।
গত বৃহস্পতিবার নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী পুরনো কয়েকটি পত্রিকা ফটোকপির জন্য আনতে চাইলে প্রথমে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান তারিক ভূঞা ও পরে কর্মচারী দেলোয়ারের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন। ঐ শিক্ষার্থী ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে মৌখিক অভিযোগও করেন।
ঐ শিক্ষার্থী জানান, কয়েকটি পুরনো পত্রিকা ফটোকপির জন্য আনতে গেলে লাইব্রেরিয়ান বলেন, এটা আমরা দিতে বাধ্য নই। লাইব্রেরিয়ান ঐ শিক্ষার্থী আইডি কার্ড চাইলে দিতে না পারায় তাকে লাঞ্ছিত করেন। পরে পত্রিকাগুলো দিলে একটি পত্রিকার পাল্টে আরেকটা চাইলে লাইব্রেরি কর্মচারী দেলোয়ার দিতে অস্বীকার করেন ও শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন।
তবে শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার ঘটনা অস্বীকার করেন ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান তারিক ভূঞা। অবশ্য রেজিস্ট্রার মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে লাইব্রেরিয়ানের সাথে কথা বলবেন।