প্রশংসায় ভাসছে আফগানিস্তান

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় আফগানিস্তানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। প্রথমবারের মতো ৫০ ওভারের ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাওয়া দলটিকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন আরও রথী-মহারথীরা। এই তালিকায় আছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও মাইকেল ক্লার্কের মতো ক্রিকেটাররা। আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে গত সপ্তাহে দ্বিতীয় স্থান লাভ করা আফগানিস্তান ও শীর্ষ দল আয়ারল্যান্ড ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে আফগানিস্তান আর ‘বি’ গ্রুপে খেলবে আয়ারল্যান্ড। আইসিসি বিশ্বকাপে ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরায় আফগানিস্তান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেন, তার দল ওই ম্যাচটি খেলার অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, ‘সত্যিই আমি ২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে মোকাবেলা করার অপেক্ষায় আছি। আমি নিশ্চিত এ সময়ের মধ্যে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে তারা আরও ভাল একটি দলে পরিণত হবে।’ মুশফিক আরও বলেন, ‘একটি শক্তিশালী আফগান ক্রিকেট দল সহযোগী দেশ ও বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যই শুভ সংবাদ।’ নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের ক্রিকেটাররা, এমনটাই মনে করছেন মুশফিক, ‘আফগানিস্তানের অগ্রগতি দেখাটা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারা অনেক পথ পেরিয়ে এসেছে এবং সফল হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের খেলোয়াড়রা সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে মোহাম্মদ নবি, মোহাম্মদ শাহজাদ এবং গুলাম নবীর মতো আফগানি খেলোয়াড়দের নেতৃত্ব দেয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি সব সময়ই তাদের অতি দ্রুত এবং শেখার আগ্রহটা দেখেছি। তারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী ও প্রকৃতিগতভাবেই মেধাবী।’ ইতোপূর্বে ২০১২ সালের আগস্টে উভয় দলের মাত্র একবার মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬৬ রানে পরাজিত করা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ক্লার্ক সহযোগী দেশটির খেলায় মুগ্ধ। আইসিসি’র দেয়া বিবৃতিতে ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা কেবলমাত্র গত বছরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে খুবই ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করেছে এবং যথেষ্ট যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে।’ সিডনি থেকে ক্লার্ক বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন মানেই দলটি কিছু করার ক্ষমতা রাখে এবং আমরা সত্যিই তাদের জন্য আনন্দিত।’ ক্লার্ক বলেন, আফগানিস্তান কেবলমাত্র সফলই হয়নি, তারা অনুপ্রাণিত হওয়ার গল্পও বটে। ‘গত এক দশকে জাতি হিসেবে তাদের অগ্রগতি এবং ক্রিকেট দল হিসেবে তারা অন্ততপক্ষে অনুপ্রাণিত হওয়ার কাহিনী সৃষ্টি করেছে। ‘‘আমাদের ধারণা ‘এ’ গ্রুপের যে কোন দলের জন্যই তারা একটি চ্যালেঞ্জ হবে এবং পার্থে নিজ মাঠে আমরা তাদের মোকাবেলা করার অপেক্ষায় আছি।’ ২০১৫ বিশ্বকাপে ৮ মার্চ নেপিয়ারে আফগানিস্তানের মোকাবেলা করা নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের পক্ষ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় আমরা আফগানিস্তান ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাই।’-বাসস