বিমানে যাত্রী ও আয় কমছে, বাড়ছে ব্যয়

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সাথে সাথে কমছে এর আয়। জাতীয় পতাকাবাহী বিমানে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ৬ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী ভ্রমণ করে। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে বিমানের যাত্রীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার। পূর্ববর্তী বছরের আলোচ্য চার মাসে টিকিট বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকার। আর এ বছরের একই সময়ে টিকিট বিক্রি ৯৯৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অথচ ওই সময়ে বিমানের বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে মতিঝিলে অবস্থিত বিমান অফিসে টিকিট বিক্রি হয় ৪৩ কোটি ৫ লাখ টাকার। সেখানে চলতি বছর মে মাসে টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ২০ কোটি টাকা। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে এই অফিসে মাত্র ২১ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। অথচ আগের বছরে এপ্রিল মাসে বিক্রি হয়েছিল ৪০ কোটি টাকার টিকিট। এই অফিসে পেশাদার কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ায় টিকিট বিক্রিতে এই ধস নেমেছে বলে জানা গেছে। এদিকে আয় কমলেও উচ্চ হারে পারিশ্রমিকে কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে বিমানের কাঁধে নতুন করে ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মার্চ মাসে সেলস ও মার্কেটিংয়ে পারদর্শী একজন ব্রিটিশ নাগরিককে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দুই বছরের মধ্যে বিমানকে লাভজনক করার ঘোষণা দেন। কিন্তু ব্যয় সংকোচনের জন্য অদ্যাবধি কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত কাজের ভাতা কিছু কমানো হয়েছে। আয় বাড়ানোর নামে ইতিমধ্যে রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য একজন বিদেশি কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার দৈনিক পারিশ্রমিক ৫শ’ পাউন্ড। হোটেল ভাড়া বাবদ তাকে প্রতিদিন ২শ’ ডলার করে দিতে হবে। এছাড়া আহার ও যাতায়াত খরচও বহন করবে বিমান। তিন মাস আগে এই নিয়োগ দেয়া হলেও ওই প্রোগ্রামের কাজ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। গত মাসের শেষদিকে ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইওয়ার কনসালট্যান্ট হিসাবে আরো একজন বিদেশিকে ওই একই অঙ্কে পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন বিমানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। লাভজনক করার কথা বলে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকে একের পর এক কনসালটেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানোর কারণে বিমানের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এদিকে বিমানের কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটিং এন্ড সেলস এবং ফাইন্যান্সে বর্তমানে একজন করে পরিচালক রয়েছেন। কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এই তিনটি বিভাগে একজন করে কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্প্রতি চূড়ান্ত করেন। গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। কিন্তু সভা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনুমোদন দেয়নি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।