ঈদ সার্ভিসে আকাশ পথে ভাড়া বৃদ্ধি আড়াইগুণ

বরিশাল-ঢাকা রুট

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস

বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে অতীতের যে কোনো বছরের তুলনায় এবার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বেশি ফ্লাইট থাকছে। আকাশপথের এ রুটটি লাভজনক হয়ে ওঠায় বিমান বাংলাদেশের পাশাপাশি বেসরকারি ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার ফ্লাইট বৃদ্ধি করে। সপ্তাহে ৪ দিন এসব পৃথক পৃথক প্রতিষ্ঠানের সকাল ও বিকালে সিডিউল রাখা হয়েছে। তবে ঈদের আগে এবং পরে ৪/৫ দিন নিয়মিত সিডিউলের পাশাপাশি স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণা করলেও একমুখি ২৭০০ টাকার টিকিট মিলছে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। তিনটি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ টিকিটি বিক্রি হয়ে গেছে। কিছু টিকিট অবশিষ্ট থাকলেও নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব টিকিট। এতে এ রুটে যাতায়াতকারীদের মধ্যে চলছে হাহাকার। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ প্রায় তিনগুণ দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

একাধিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাহিদা বাড়ায় ঈদের পূর্বের চারদিন ও পরের চারদিন অতিরিক্ত ফ্লাইট থাকছে। আকাশপথে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা অভিযোগ করেছেন চলতি মাসের শুরু থেকেই তারা অফিসগুলোতে ঈদের টিকিটের জন্য যোগাযোগ করতে থাকেন। কিন্তু শুরু থেকেই প্রত্যেক এয়ারলাইন্সে টিকিটের দাম নিয়মিত দামের তুলনায় আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি। বুকিং অফিস থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঈদ যাত্রার টিকিট পূর্ব থেকেই বিক্রি হওয়ায় বর্তমান সামান্য টিকিট রয়েছে। 

এদিকে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের কেবিনের জন্য আবেদন বা চাহিদাপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসিতে চাহিদাপত্রের বিষয় না থাকায় ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের রিজার্ভেশন শাখা এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি’র সহ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বরিশাল কাউন্টারে ঈদের স্পেশাল টিকিট পাওয়া যাবে না। এই টিকিট শুধু ঢাকার প্রধান কার্যালয় ও অনলাইনে পাওয়া যাবে।

সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা না আসলেও বরিশালের লঞ্চ মালিকরা নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য কেবিনের চাহিদাপত্র, স্লিপ বা আবেদন নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। গতকাল শনিবার থেকে বিলাসবহুল এসব লঞ্চের চাহিদাপত্র নেওয়া হচ্ছে কাউন্টারগুলোতে। স্বচ্ছতার মাধ্যমে টিকিট বিক্রির জন্যই বিগত বছরগুলোর মতো এবারও আগেভাগে কেবিনের চাহিদাপত্র নেওয়া হচ্ছে বলে লঞ্চ মালিকরা জানান। অধিকাংশ লঞ্চ মালিক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই চাহিদাপত্র থেকে যাত্রীদের কাছে ঈদ স্পেশাল টিকিট বিক্রি শুরু করবেন। চাহিদাপত্রের আবেদনগুলো বরিশাল ও ঢাকার স্ব-স্ব লঞ্চের কাউন্টারে জমা দিতে হবে। 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেই না। তবে স্বাভাবিক সময়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিয়ে থাকি। ঈদের সময় সদরঘাট বা বরিশাল লঞ্চঘাটের এক প্রান্ত থেকে যাত্রী ছাড়াই ফিরতে হয়। তাই এ সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে থাকি। বিআইডব্লিউটিএ’র এখানকার উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদে ভাড়া বেশি নেওয়া হয় না।