চিকিত্সা বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন দুই মার্কিনী ও এক জার্মান
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫২
কোষের স্থানান্তর পদ্ধতির সংগঠন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছর চিকিত্সা বিজ্ঞানে ২ মার্কিন ও ১ জার্মান নাগরিক নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের জেমস রথম্যান ও রেনডি শেকম্যান এবং জার্মানির থমাস সুডহফ। সুইডেনের স্টকহোমে গতকাল সোমবার এই ৩ চিকিত্সা বিজ্ঞানীর নোবেল বিজয়ের ঘোষণা দেয়া হয়। খবর:এএফপি।
মানব কোষে ইনসুলিন তৈরি হওয়ার পর কীভাবে তা রক্তে মিশে এবং এক স্নায়ুকোষ থেকে কী করে রাসায়নিক সংকেত পৌঁছে যায় অন্য কোষে—সেই রহস্য উন্মোচন করে তারা নোবেল জয় করেছেন। তাদের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি ফর ফিজিওলজি অফ মেডিসিনের সেক্রেটারি গোয়েরন হ্যানসন বলেন, কোষ থেকে কোষে রাসায়নিক অণুর পরিবহন কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তা গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন এই ৩ বিজ্ঞানী। কোষের ওই পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটলে স্নায়ুবিক জটিলতা, ডায়াবেটিস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই অসাধারণ অর্জনের জন্য বিজয়ীরা পাবেন ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার)। তাদের মাঝে এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে দেয়া হবে।
চলতি বছর যৌথভাবে নোবেল জয়ী ৬৩ বছর বয়সী রথম্যান ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করেন তিনি। মূলত এখান থেকেই তিনি কোষের ওপর গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন। পাশাপাশি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণা কর্ম চালিয়ে যান এই মার্কিন চিকিত্সা বিজ্ঞানী। ২০০৮ সাল থেকে রথম্যান ইয়েল ইউনির্ভাসিটিতে কমর্রত আছেন। অপর মার্কিন নাগরিক শেকম্যান ১৯৪৮ সালে মিনেসোটায় জন্মগ্রহণ করেন। লস অ্যাঞ্জেলসে প্রাথমিক পাঠ শেষে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনির্ভাসিটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ১৯৭৪ সালে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করে আসছেন এই চিকিত্সা বিজ্ঞানী।
এছাড়া জার্মান নাগরিক সুডহফ ১৯৫৫ সালে গোটিংজেনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে জর্জ অগাস্ট ইউনির্ভাসিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাসে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস সাউথ-ওয়েস্টার্ন মেডিক্যাল সেন্টারে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে যোগ দেন। এরপর ১৯৯১ সালে হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে একজন গবেষক হিসাবে যোগদান করেন সুডহফ। তবে ২০০৮ সাল থেকে তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছর চিকিত্সা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান যুক্তরাজ্যের নাগরিক জন গর্ডন ও জাপানের নাগরিক শিনা যামানাকা।