হলমার্কের তানভীরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সোনালী ব্যাংকের ১২০০ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা ১১টি মামলায় হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় সোনালী ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তাসহ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী গতকাল সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। এর আগে গত ১৭ আগস্ট এসব অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন হয়েছে তারা হলেন হলমার্কের এমডি মো. তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ, হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের মালিক শহিদুল ইসলাম, স্টার স্পিনিং মিলসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক তসলিম হাসান, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের মালিক জিয়াউর রহমান, আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, প্যারাগণ গ্রুপের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা, নকশী নিটের এমডি আবদুল মালেক ও সাভারের হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন সরকার। এছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে আসামি হিসেবে রয়েছেন সোনালী ব্যাংকের হোটেল রূপসী বাংলা শাখার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমান, সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইফুল হাসান, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন ও সোনালী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখার বর্তমান জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরি, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দুই জিএম ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান (দুজনই ওএসডি), প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, ডিএমডি মাইনুল হক ও আতিকুর রহমান (দুজনই ওএসডি), দুই উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত) ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত), দুই এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত) এবং এজিএম এজাজ আহম্মেদ। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ৭ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ, তানভীরের ভায়রা তুষার আহমেদ, সোনালী ব্যাংক হোটেল শেরাটন বা রূপসী বাংলা শাখার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যবস্থাপক এ কে এম আজিজুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের জিএম মীর মহিদুর রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান, দুই উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত ) ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত )। জামিনে আছেন হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম। তিনি গত ৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান। বাকিরা পলাতক। মামলাগুলোতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম ভগবতী মজুমদার, এজিএম আবুল হাসান, সিনিয়র অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান, জেনারেল ম্যানেজার আনম মাসরুরুল হুদা সিরাজী, এজিএম (সাময়িক বরখাস্ত) আশরাফ আলী পাটোয়ারী, জিএম (অব) সবিতা সিরাজ, ডিজিএম কানিজ ফাতেমা চৌধুরী ও এজিএম খুরশীদ আলম। কোনো কোনো মামলা থেকে হলমার্কের জিএম তুষার আহমেদ ও সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি আতিকুর রহমানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। চার্জশিটের সঙ্গে সোনালী ব্যাংক ও হলমার্ক থেকে জব্দ করা কয়েক হাজার নথিপত্রও জমা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফান্ডেড ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।