আন্দোলন প্রত্যাহার না করলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৬
শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল সোমবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভ?ূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের আন্দোলনের ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, সাধারণ শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহল উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়াবহ রকমে ক্ষতিগ্রস্ত এবং তাদের শিক্ষাজীবন হুমকির সম্মুখীন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এনে তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। সে অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে গত ২৪ আগস্ট আলোচনাক্রমে বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা সে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনের ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের কথা থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিশনের সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। সে পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। ইতিমধ্যে এ কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগেই শিক্ষকদের একাংশ মন্ত্রণালয়ের সাথে কোন রকম আলোচনা ছাড়াই পুনরায় আন্দোলন শুরু করে। তারা গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং গত ১ অক্টোবর রাত ১০টা ৪০ মিনিট থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। শিক্ষকদের একাংশের এধরনের আচরণ অবিবেচনাপ্রসূত এবং কোনক্রমেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগের সাথে সমগ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মনে করে শিক্ষকদের একাংশের এ ধরনের কার্যক্রম সুষ্ঠু শিক্ষার পরিপন্থী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করে যে আন্দোলনরত শিক্ষকগণ অবিবেচনাপ্রসূত সকল আচরণ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম পরিহার করে আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন এবং অনতিবিলম্বে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করবেন। অন্যথায় সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার স্বার্থে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।