‘রামপালে বিদ্যুত্ কেন্দ্র হবে পরিবেশ বান্ধব’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাগেরহাটের রামপালে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বিদ্যুত্ কেন্দ্র হচ্ছে। এতে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না। আর এমন বিদ্যুত্ কেন্দ্র তো অনেক আগেই বড়পুকুরিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে। সেখানকার কোন মানুষের বা জমি-জমা, গাছ-পালার কোনো ক্ষতি হয়নি। মানুষের জন্য দরদ নেই, এমন অনেকেই সুন্দরবন নিয়ে মায়াকান্না করছেন। আর এরসঙ্গে সুর মিলিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেত্রীও। কারণ তিনি তো বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারেননি, অন্যকে করতে দেবেন কেন? গতকাল সোমবার বিকালে গণভবনে সাতটি জেলার আওয়ামী লীগ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনকে দেশ ও জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নিজে (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় থাকতে জনগণের ভোট চুরি করেছিলেন বলেই সবাইকে চোর ভাবেন। নিজে ক্ষমতায় থাকতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিলেন বলেই সবাইকে খুনি ভাবেন। হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি আর জনগণের ভোট চুরি করাই উনার চরিত্র। বিরোধী দলের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে, সেই নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের আমলে ৫ হাজারের মতো বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একটি নির্বাচন নিয়েও কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি। কেননা আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনর্বার বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত দেশকে অন্ধকারের পথে নিয়ে যেতে চায়। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশকে পিছিয়ে দেয়া ও অন্ধকারের পথে ঠেলে দেয়া। তাই দেশের জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা অন্ধকারের যুগে ফিরে যাবে নাকি আলোর পথে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সেই পথেই থাকবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের জনগণ অন্ধকার নয়, আলোর পথে থাকতেই নৌকাকে বিজয়ী করবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে যে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সংলাপের আহ্বান জানালে বিরোধী দলীয় নেত্রী আমাকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বললেন, আমি নাকি পালাবারও পথ খুঁজে পাব না। এরপর বিএনপি নেত্রী দলের ক্যাডার, জামায়াত-শিবির ও হেফাজতকে দিয়ে মসজিদে আগুন দিলেন, শত শত কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দিলেন। বিশ্বের ইতিহাসে একদিনে এতো কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা আর নেই। অন্যভাবে দেশ পরিচালনার যে ঘোষণা বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কাজই হলো দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা। দেশের মানুষ শান্তিতে আছে কিন্তু একমাত্র অশান্তিতে আছেন আমাদের বিরোধী দলের নেত্রী। দেশের মানুষের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও শান্তি তার (খালেদা জিয়া) পছন্দ নয়। উনি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিদিনই উত্খাতের হুমকি দিচ্ছেন। কারণ দেশের এতো উন্নয়ন তার সহ্য হচ্ছে না। নতুন ভবন খুলে নতুনভাবে দুর্নীতি করতে চান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া জামায়াত ও হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে তেঁতুল তত্ত্ব দিয়েছেন। তেঁতুল তত্ত্ব দিয়ে তিনি মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ এবং সারাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ লাখো লাখো নারী চাকরি করছেন, তাদেরকে চাকরি করতে না দিয়ে ঘরে নিয়ে বসাবেন। এভাবে দেশকে উনি আবারও অন্ধকারের পথে ঠেলে দিতে চান। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই খালেদা জিয়া ‘হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ’ চান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী ও পুত্রকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন খালেদা জিয়া। কোটালীপাড়ায় বড় বড় বোমা পুঁতে রেখেছিলেন। অসংখ্যবার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সমাবেশ-মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। এমনকি ’৮৮ সালে আমাকে হত্যার জন্য মিছিলে গুলি করে যে পুলিশ অফিসার গণহত্যা চালিয়েছিল, তাকে উনি (খালেদা জিয়া) পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় এনেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশিদকে একতরফা প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী করে এমপি বানিয়েছিলেন কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে আমরা দেশকে কলঙ্কমুক্ত করবোই ইনশাল্লাহ। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময়ই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছি। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীসহ স্বাধীনতার পক্ষের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে ঠাকুরগাঁও, কক্সবাজার, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সতিশ চন্দ্র রায়, নুহ-উল-আলম লেনিন, কাজী জাফর উল্যাহ, এইচটি ইমাম, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আখতারুজ্জামান, এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, আমিনুল ইসলাম আমিন, তানভির শাকিল জয় এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহ যাচ্ছেন আজ ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার ঝিনাইদহে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রঙিন সাজে সাজানো হয়েছে ঝিনাইদহকে। তোরণ, ব্যানার, বিলবোর্ড ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। প্রধানমন্ত্রী এদিন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ম্যুরাল চেতনা ৭১’ এর উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঝিনাইদহে আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্সাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তার প্রথম ঝিনাইদহ সফর। সফরের শুরুতে ম্যুরাল চেতনা ৭১’ এর উদ্বোধন শেষে তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ,ঝিনাইদহ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব-হেলথ টেকনোলজি, মেডিক্যাল অ্যাসিস্টান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ওরাল স্যালাইন ফ্যাক্টরি, শিশু একাডেমি কমপ্লেক্স ভবন, সরকারি কেসি কলেজের নবনির্মিত চার তলা ভবন, ঝিনাইদহ পৌরসভার সমপ্রসারিত ভবন ও পোস্ট অফিস ভবন উদ্বোধন করবেন। একই সাথে তিনি ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ঝিনাইদহ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর বিকালে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।