তেলেঙ্গানা ইস্যু

কংগ্রেস নেতাদের বাড়িতে হামলা বিক্ষোভকারীদের

তেলেঙ্গানার উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজধানী দিল্লিতেও। তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রতিবাদে গতকাল নয়াদিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। আন্দোলন যেভাবে গতি পাচ্ছে তা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেস নেতাদের বাড়িতে হামলা করছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের। প্রতিবাদকারীরা কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে বলছেন, আপনারা কংগ্রেস দল থেকে পদ্যতাগ করুন। কংগ্রেস সংসদ সদস্যসহ কয়েক নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দলটির অফিসেও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। ভিসাখাপাতানাম এলাকায় গতকাল একদল বিক্ষোভকারী মন্ত্রী ডি পুরানদেশ্বরীর অফিসে হামলা চালান। এসময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একইভাবে মন্ত্রী গানতা শ্রীনিভাসা রাওয়ের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া কংগ্রেস সংসদ সদস্য বিজয়প্রসাদ এবং বিজয়কুমারের বাড়িতেও হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। রবিবার বিজয়নগরমে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে বহু মানুষ বিক্ষোভে সামিল হন। কোথাও কোথাও পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। গতকাল সকালেও নতুন করে পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন পুলিশকর্মী আহত হন। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজ্য বিদ্যুত্কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। রাজ্য ভাগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কার্যত ‘ব্ল্যাক আউট’-এর পথে নামায় রবিবার থেকেই অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে বিস্তীর্ণ সীমান্ধ্র। থমকে গিয়েছে ট্রেন চলাচল, বাতিলও হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। তেলেঙ্গানা নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকাকে ‘ম্যাচ গড়াপেটা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন নাইডু। তার অভিযোগ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থেই কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, পৃথক তেলেঙ্গানা আটকাতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। পৃথক তেলেঙ্গানায় কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেতের পর গতকাল মুখ খুললেন সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিংহ যাদব। তিনি বলেন, বড় রাজ্যগুলোকে ভাঙ্গার পক্ষে নয় তার দল। আবার তেলেঙ্গানা প্রসঙ্গে জগন্মোহন ও চন্দ্রবাবুকে এক হাত নিয়ে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ বলেছেন, তারা আগেই তেলেঙ্গানা গঠনে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তারা এখন সুবিধাবাদী রাজনীতি করছে।