মিসরে পুলিশ-ব্রাদারহুড সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৭
মিসরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৫৩ জন নিহত এবং আড়াইশ’র বেশি মানুষ আহত হয়েছে। সংঘর্ষ কায়রোর অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এদিকে সুয়েজ খালের কাছে একটি শহরে বন্দুকধারীদের গুলিতে ৫ সেনা নিহত হয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
এঘটনার পর কায়রো থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডের দুইশ’র বেশি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কায়রোর তাহরির স্কয়ারে ইসরায়েল যুদ্ধের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানস্থলে ব্রাদারহুডের সমর্থকরাও একটি সমাবেশ আহবান করলে সেখানে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। যদিও সেনাবাহিনী পরে তাদের হটিয়ে দেয়। সেসময় মুরসি সমর্থকরা ঢোল বাজিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে ওই স্থানে ঢোকার চেষ্টা করে। তারা জেনারেল সিসিকে হত্যাকারী বলে স্লোগান দিতে থাকে। এরপর সংঘর্ষ কায়রোর অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। কায়রোতে সংঘর্ষের পর ব্রাদারহুডের সদস্যরা শহরের অন্যান্য অংশে এবং আলেকজান্দি য়ায় বিক্ষোভ মিছিল করে। ওইসব স্থানেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে তাদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। সেসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে এবং ফাঁকা গুলি করে। আর এতে মুখোমুখি সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। সংঘর্ষে কায়রোতে ৪৫ ও রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে আরো ২শ’ ৬৮ জন আহত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আহমেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন। এছাড়া আরো কয়েকটি স্থানে তিনজন নিহত হয় বলে জানা যায়।
ব্রাদারহুডের সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণাত্মক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। তারেক নামে ব্রাদারহুডের একজন কর্মী যিনি সেনাবাহিনীর একজন রিজার্ভ অফিসার ছিলেন তিনি বলছিলেন, সেখানে যা করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর নীতির মধ্যে পড়ে না। মিসরের সেনাবাহিনী অন্যদেশের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়বে কিন্তু নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কেন লড়বে তারা? অন্যদিকে, দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সিনাই উপত্যকায় একটি নিরাপত্তা ভবনে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে অন্তত দুইজন। সুয়েজ খাল তীরবর্তী শহর ইসমাইলিয়ার একটি তল্লাশিকেন্দ্রে সেনারা একটি গাড়িতে বসে থাকার সময় তাদের ওপর হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। দক্ষিণাঞ্চলীয় সিনাই উপত্যকার একটি শহরে নিরাপত্তা বিভাগের একটি ভবনে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছে। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।