বাংলাদেশে সংস্কৃতির বাতিঘর ৩৮ বছরের সংগঠন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। ২৫০০ বছরের অধিক সময়ের নাট্যচর্চা এখনো এই ভূখণ্ডে বহমান। আমরা তারই ধারাবাহিক ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছি ৪০০-এর অধিক নাট্যদলের কর্মের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অন্যতম প্রেরণা। আমরা দায়বদ্ধ সমাজ ও মানবতার কাছে। সৃজনশীলতা আমাদের প্রয়োগে। সময়ের দাবিতে ১৯৮০ সালে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাণের এক সংগঠন এটি। দেশ জাতির অধিকার আদায়ের ও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন ও নাটকের মহামিলন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। আর এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন বরেণ্য নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। সংগঠনটির বর্তমান চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী ও সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ। লক্ষ্য পেশাদারিত্ব কিন্তু বাস্তবতা সত্যিই রূঢ়। নাটক তথা সংস্কৃতির জন্য রাষ্ট্রীয় বাজেটে বরাদ্দ ০.০০১৪% মাত্র। অর্থের এই বরাদ্দ দিয়ে সংস্কৃতি চর্চায় কোনো দৃশ্যমান কাজ হয় না। অথচ অনেক অনুত্পাদন খাতে রাষ্ট্রের বাজেট বরাদ্দ হাজার হাজার কোটি টাকা। দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিস্তার ঘটে সংস্কৃতি চর্চার অনুপস্থিতিতে। দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের মতো খারাপ পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই নাট্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশ জরুরি। আজ যুব সমাজ যেখানে এসে উপনীত হয়েছে তাতে করে আমাদের আগামী সত্যিই উদ্বেগজনক। স্কুল পর্যায় থেকে এই বিষয়গুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা না গেলে এই উদ্বেগ কোনোভাবেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। সুতরাং স্কুল-কলেজে এই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। নাট্যকর্মীদের বেতন চালু করতে হবে। ষাটোর্ধ্ব শিল্পীদের চিকিত্সা ভাতা দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে সংস্কৃতির উন্নয়নে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই দেশে ধনিক শ্রেণির কোনো ভূমিকা নেই দেশের মূলধারার সংস্কৃতিতে। অথচ স্বাধীনতার সমস্ত সুফল তারা ভোগ করছে, তৈরি হয়েছে লুটেরা গোষ্ঠী। যদিও মহান মুক্তিযুদ্ধে এদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। এবারের গ্রুপ থিয়েটার দিবসে আমরা একটি সৃজনশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে চাই। গঠিত হবে মানবিক বাংলাদেশ।