ঢাবির খ ও ঘ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

শেষ সময়ের কৌশল

সামনে ভর্তি পরীক্ষা। সময় এখন নিজেকে তৈরি করার। সামনের দিনগুলোতে কেমন হবে আপনার পথচলা? নির্ধারণ হবে এই কটা দিনেই। হেলায় সময় পার না করে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করুন। তাহলেই আপনার ভবিষ্যতের পথচলা সহজতর হবে। প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিন। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছেন। ভালো সময় পার করার উপর নির্ভর আপনার পরবর্তী জীবন। অযথা সময় নষ্ট করবেন না। সময়ের সঠিক ব্যবহারই আপনাকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ও ঘ ইউনিটের ভর্তি প্রস্তুতির বিষয়ভিত্তিক রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা। বোর্ড পরীক্ষা বনাম ভর্তি পরীক্ষা। প্রস্তুতি বেশ আলাদা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ঘ ইউনিটে যারা পরীক্ষা দেবেন তাদের পড়াশোনা একটু বেশিই করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় বাংলায় থাকে ২৫% নম্বর। বাংলার ভালো প্রস্তুতির জন্য ১ম ও ২য় পত্রে সমান গুরুত্ব দেবেন। সাহিত্য অংশের প্রতিটি ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও কবিতার নাড়ী-নক্ষত্র আত্মস্থ করতে হবে। নখদর্পণে রাখবে সব তথ্য ও পরিসংখ্যান। শব্দার্থ ও টীকার বিষয়টিও সতর্কভাবে দেখতে হবে। লেখক পরিচিতি যেন বাদ না যায়। আর ব্যাকরণের ক্ষেত্রে ৯ম-১০ম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ বইটি পুরো দখলে আনবে। আর উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ব্যাকরণের বিষয়গুলোও ভালো করে পড়বেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী থেকেও কিছু প্রশ্ন আসে। ইংরেজি অংশে থাকে পরীক্ষার ২৫% নম্বর। খ ইউনিটে সচরাচর প্রথমপত্রের পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। তাই খ ইউনিটে যারা পরীক্ষা দেবে তারা পাঠ্যবইটি খুব ভালোভাবে পড়বে। অপরদিকে বিগত বছরগুলোতে ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় যদিও প্রথমপত্রের পাঠ্যবই থেকে কোনো প্রশ্ন আসেনি তারপরও এর ওপর ধারণা থাকা জরুরি। আর ইংরেজি সাহিত্য ও কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী বিষয়ক তথ্য অবশ্যই জানতে হবে। বানান শুদ্ধিবিষয়ক প্রশ্ন সচরাচর থাকে। শব্দভাণ্ডার শক্তিশালী থাকা জরুরি। প্রতিদিন কিছু সময় ইংরেজি পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করতে হবে। খ ও ঘ উভয় ইউনিটের পরীক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে সাধারণ জ্ঞান। এতে বরাদ্দ মার্কস ৫০%। সুনির্দিষ্টভাবে সাধারণ জ্ঞানের সিলেবাস নির্ধারণ মুশকিল। তাই এ অংশে ভালো করার জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন হয় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ঘিরে। বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে বাংলাদেশের আয়তন, সরকার ব্যবস্থা, সংসদ ও গণতন্ত্র, শাসন ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যবস্থা, বন্দর, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থানসহ খুঁটিনাটি জানতে হবে। প্রাকৃতিক তথ্যসমূহ যেমন: নদ-নদী, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য, দেশের উজানে থাকা বিভিন্ন বাঁধ ও সেচ প্রকল্প, হিমালয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের নেয়া প্রকল্পের তথ্য, হাওর, নদ-নদী, দ্বীপাঞ্চল ইত্যাদি সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা দরকার। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে আরও যেসব বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকা জরুরি সেসব হলো: খেলাধুলা, দেশি-বিদেশি সাহিত্য, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, নাট্যকলা, বিভিন্ন কালজয়ী গানের সুরকার ও রচয়িতা, অঞ্চলভিত্তিক শিল্প-সাহিত্য, দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী, ঐতিহাসিক ঘটনা বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত মৌলিক তথ্য ইত্যাদি। বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে হয় আন্তর্জাতিক অংশের প্রশ্ন। সাধারণ জ্ঞানের ব্যাপারটি মুখস্থ করার মধ্যে পড়ে না। আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে। খ ইউনিটের পরীক্ষায় সাধারণত সামপ্রতিক বিষয়গুলো আর ঘ ইউনিটে মৌলিক বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। দৈনিক পত্রিকা আর তথ্যভিত্তিক মাসিকগুলো নিয়মিত পড়তে হবে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন ও সে অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করলে উপকৃত হবেন।