জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপনী উত্সব

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে উল্লাস

উল্লাস-আনন্দ-বিষাদের সংমিশ্রণ ছিল। তার সাথে একাত্ম হয়ে লুকোচুরি খেলছিল প্রকৃতিও। ছিল আকাশে মেঘের গর্জন। মাঝে মাঝে কালো মেঘে ঢাকা পড়ছিল আলো। রিমঝিম বৃষ্টিও ঝরছিল কারণে-অকারণে। ঝির ঝির বৃষ্টিতে ভিজে হাতের করতালি আর মুখের কান ফাটানো শব্দে মাতোয়ারা ছিল চারদিক। শিক্ষা সমাপনীর আনন্দে কয়েকশ বিদ্যার্থীর ভেসে যাওয়ার অতুলনীয় দৃশ্য এটি। সবাই সেজেছিল একই পোশাকে। একই রংয়ের টি শার্টের পাশাপাশি ছাত্রীরা পরেছিল লাল শাড়ি, খোঁপায় বেঁধেছিল গোলাপ ও গলায় এবং কানে পরেছিল বাহারি ডিজাইনের গহনা। জীবনের একটি অন্যতম অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে খচিত হলো বিদায়ের তিনটি দিন। সত্যি বলতে কি, এ অনুভূতি প্রকাশের কোন ভাষা নেই। এমনিভাবে ভাষা ছাড়াই মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের ৩৬তম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থী সাজ্জাদ পারভেজ, সোহেল রানা, রোমানা আফরোজ, রুমানা ফেরদৌসী রুমু, আয়শা, সাচী, শারমিন, আঁখি, সাথী, নিশাত, মুক্তা, জয়নব, সেজুতি, তানিয়া, মিথি, লোপা, পল্ল¬বী, শিমু, মৌরী, রুবী, রাকিব, নাজমুল, রুবেল, মোর্শেদ, আরাফাত, বাবলু, হাসিব, ইব্রাহীম, তামিম, আরিফ, আনিছ, জুয়েল, শুভংকর, ধীমান, মাসুদ, জাকারিয়া, আবুবকর, সৌরভ, নাসির, মোশারফ, নয়নবালা, হামিদ, সজীব, রোকন, জয়, অলি, রিফাত, জলিল, তুলিনসহ অন্যরা। কিন্তু উপস্থিত ছিলেন না উত্সবের মধ্যমণি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের ছাত্র ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড আসন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের কারণে তার এই অনুপস্থিতি। গত ৪-৬ অক্টোবর ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের জমকালো আনন্দ-বেদনার ‘শিক্ষা সমাপনী উত্সব’। ভালোবাসার রঙ্গে মন রাঙ্গিয়ে উত্সবে মেতেছিল বিদায়ীদের সাথে ক্যাম্পাসবাসীও। ছিল ভালোবাসার স্নিগ্ধ পরশ বোলানো দিবসের স্মৃতিময় তিনটি দিন। ৪ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ব্যান্ড শো। ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যান্টাসি কিংডমের দিকে যাত্রা করে। সকাল ১০টায় সেখানে পৌঁছান তারা। ১১টা থেকে শুরু হয় ফ্যান্টাসি কিংডমে ফটো সেশন আসর। এসময়ে ক্যামেরার সামনে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে কে কিভাবে পোজ দিয়ে বেশি ছবি উঠাতে পারে। পরদিন সকাল ১১টায় শুরু হয় তৃতীয় দিনের উত্সব। এ দিনের চিত্র ছিল আরো চমত্কার। সবাই আনন্দ-উল্লাসে আত্মহারা। নেই কোন অভিমানী মুখ, নেই কোন অনুযোগ, নেই কোন দুঃখ। এ যেন স্বর্গীয় আনন্দ। ফানুস উড়ানোর সময় সবাই যেন একে অন্যের মধ্যে একাকার হয়ে গিয়েছিল।