প্রি য় মু খ .......................
সুজনের সফলতা
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৪৩
স্বপ্নই তাকে টেনে এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ল প্রাঙ্গণে। ভর্তি হয়েছেন ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগে। এরপর পথ দেখিয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরাই। সেই স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণের পথে সফলতার সাথে অতিক্রম করেছেন একটির পর একটি সিঁড়ি। অনার্সে সম্মিলিতভাবে ৩.৮৭ সিজিপিএ (৪ স্কেলে) নিয়ে হয়েছিলেন দ্বিতীয়। নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন সারা জীবন। তাই মাস্টার্সে অনার্সের থেকে আরো ভাল রেজাল্ট করার প্রতিজ্ঞা নিয়েই পরিশ্রম করেছেন। সুফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। ৩.৯৩ সিজিপিএ নিয়ে নিজের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। বলছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়লের আএসআটি’র অধীনে ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সামছুল আলম সুজনের কথা।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনীতে। ২০০৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে। কিন্তু আজন্ম লালিত স্বপ্ন— ‘পড়তে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে’। তাই এক বছর অপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। চান্সও পেয়ে যান।
যে বিষয়টি নিয়ে পড়ালেখা করতে হবে সেই পরিসংখ্যানের সাথে পরিচয় ছিল না আগে। কিন্তু বিভাগের শিক্ষকরাই দূর করেছেন সেই ভয়। সেই গল্প শুনুন এই কৃতী ছাত্রের মুখেই, ‘আমি তো এই সাবজেক্টটা সম্পর্কে আগে কিছুই জানতাম না। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা সবাই অনেক হেল্পফুল। তাদের আন্তরিকতা এবং সুন্দর পাঠদানের কল্যাণে এই বিষয়টাকে ভালবেসে ফেলি খুব অল্প দিনের মধ্যেই।’
জানার আগ্রহ আর ভাল রেজাল্টের প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শুরু থেকেই করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। এতো পরিশ্রমের স্বীকৃতিও পেলেন কিছুদিন আগেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ভূষিত করেছে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ডে’। অনার্সের চার বছরের কোনো কোর্সে কোনো রকম ইমপ্রুভমেন্ট না রেখে সেরা রেজাল্ট করা ছাত্র-ছাত্রীদেরকেই এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। সুজনের বাবা মা এসেছিলেন ছেলের এই স্বীকৃতি স্বশরীরে উপস্থিত থেকে দেখার জন। এটাই তো চেয়েছিলেন সুজন, ‘আমি সব সময় চাইতাম আমি এমন কিছু করি যাতে আমার বাবা মা খুশি হন। এই পুরস্কার পাওয়াতে তারা অনেক খুশি। তাদেরকে এই যে খুশি করতে পেরেছি, এটাই আমার জীবনের সেরা অর্জন।’
সুজন স্বপ্ন দেখেন দেশের বাইরে যাবেন। তার স্বপ্ন উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরে নিজের আহরিত জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেয়া, ‘আমি নিজে জানতে চাই। এরপর শিক্ষকতা পেশায় আসতে চাই। যাতে করে আমার জ্ঞানকে আমি অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। কারণ এতে করে আমি আমার জ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবো।’