ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দোলেশ্বরের হোঁচট

ফতুল্লায় না হওয়া খেলা এখন সিসিডিএমে

আবাহনী, শেখ জামাল ও প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে জেতার পর খেলাঘরের মতো দুর্বল দলের কাছে হারাটা প্রাইম দোলেশ্বরের জন্য অঘটনই বটে। সেটাই ঘটলো ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে গতকাল মঙ্গলবার। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সংস্থার কাছে ৪৭ রানে হারলো প্রাইম দোলেশ্বর। অপরদিকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে ৫২ রানে জিতলো তবে সপ্তম রাউন্ডের খেলায় এদিন আলোচনায় রইল মাঠে না গড়ানো ব্রাদার্স ইউনিয়ন ওসিসিএস ম্যাচটিফতুল্লায় সিসিএস দল ‘যানজটের’ বিপাাকে দেরি করে মাঠে পৌঁছানোয় ওয়াক ওভার দাবি করে ম্যাচটি খেলতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ম্যাচ রেফারি দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেও পারেননি। পরে তিনি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। বিষয়টি আয়োজক সংস্থা সিসিডিএমের কাছে পাঠিয়ে দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সূত্রপাত যাত্রাবাড়ি মোড়ে এক গন্ডগোল থেকে। সেখানে গন্ডগোলের ফলে সিসিএস দল ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের বহনকারী দুটি গাড়িই যানজটে আটকে যায়। যদিও নির্ধারিত সময়ে মাঠে পৌঁছে যায় ব্রাদার্স দল। সেই যানজট শেষে সিসিএসের খেলোয়াড়রা যখন মাঠে পৌঁছান, ততোক্ষণে বাইলজ নির্ধারিত খেলার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছানোর যে কথা, তা পার হয়ে গেছে। ম্যাচ রেফারির ভাষ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ৯টার ১৫ মিনিট আগে মাঠে পৌঁছায় সিসিএস। এ অবস্থায় ওয়াক ওভার দাবি করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। কিন্তু ম্যাচ রেফারি সামিউর রহমান সামি বলছেন, ‘এরকম দুর্ঘটনা বা বিপাকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ছাড় দেয়ার কথা বলা আছে বাইলজে। সেটাই আমি ব্রাদার্সের অধিনায়ক ও ম্যানেজারকে বুঝিয়েছি।’ জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, শুরুতে দুই অধিনায়ক খেলার ব্যাপারে একমতও হন। কিন্তু তিনি যখন টস করতে নামেন, তখন আর ব্রাদার্স অধিনায়ক আসেননি। সামি বলছিলেন, ‘আমি টসে গিয়ে পনেরো মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখনই আমি রিফিউজ টু প্লে আইনে সিসিএসকে জয়ী ঘোষণা করতে পারতাম। তারপরও আমি চেয়েছি খেলা হোক। সে জন্য পরেও বুঝিয়েছি। কিন্তু ব্রাদার্স খেলতেই চাইল না। তারপরও আমি কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। ব্যাপারটা আমার রিপোর্টসহ সিসিডিএমের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারাই এখন সিদ্ধান্ত নেবে।’ সিসিডিএমের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, তারা রিপোর্ট দেখে ও সব পক্ষের কথা বলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। দোলেশ্বরের টানা দ্বিতীয় হার মৌসুমে প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারলো প্রাইম দোলেশ্বর। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২১৫ রান করে খেলাঘর। সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন আরিফুল হক। ফরহাদ রেজা তিনটি উইকেট নেন। জবাবে, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর খেসারত দিয়ে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ১৬৮ রানের মধ্যেই আউট হয়ে যান দোলেশ্বরের ব্যাটসম্যানরা। খেলাঘরের নিজামুদ্দিন রিপন একাই নেন পাঁচটি উইকেট। এই হারের ফলে সুপার সিক্সে খেলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেল দোলেশ্বরের। সাত ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় সপ্তম স্থানে আছে দলটি। আর লিগে প্রথম জয় পেলেও খেলাঘরের অবস্থান সেই তলানীতেই থাকলো। দুই কলাবাগানের লড়াই জিতলো একাডেমী দুই কলাবাগানের লড়াইয়ে জিতলো কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী। বিকেএসপি’র তিন নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ৫২ রানে হারায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্রকে। লো স্কোরিং ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেটে ১৮৯ রান করে একাডেমী। জবাবে ৩৯ ওভার দুই বলে মাত্র ১৩৭ রানেই থেমে যায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের ইনিংস।