বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-’৭৫ গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম

বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে দেয়া হবে না

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে দেয়া হবে না। হেফাজতে ইসলাম মতিঝিলের জনসভায় স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে যে, বাংলাদেশকে তারা শরিয়া আইনে পরিচালিত করতে চায় এবং এ দেশকে একটি তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধে এই অপশক্তিকে পরাজিত করা না গেলে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদীপ্ত বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। বাংলাদেশ তালেবানি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মধ্যযুগে ফিরে যাবার জন্য সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয়ই এ অপশক্তিকে প্রতিহত করবে- ‘উই শ্যাল ওভারকাম’। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এইচ টি ইমামের দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫’ এর প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এইচ টি ইমাম আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে যে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়নি- এবার তাদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে। যাতে তারা আর কখনো বাংলাদেশকে উগ্র মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে। তিনি আরো বলেন, গ্রন্থটি ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য লেখা। যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে একটি দেশকে গড়ে তুলবার কথা বলতে চেয়েছি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার ও পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার নিয়ে নানা জন মনগড়া উদ্ভট তথ্য দেয়। সেসব ভ্রান্তি দূর করার জন্যই এ গ্রন্থ লেখা। কারণ, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পড়ানো হয় না। আর মিলিটারি একাডেমি সবসময় উল্টা পথে চলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এ কে খন্দকার বীরউত্তম। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, বিশিষ্ট গবেষক মুনতাসীর মামুন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রণজিত্ কুমার বিশ্বাস প্রমুখ। গ্রন্থটিতে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, সংবিধান প্রণয়ন, ভারতীয় সৈন্য ফেরত পাঠানো, প্রশাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, রাজনৈতিক ঘটনাবলী ও তার ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে ১৯৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত যে সময়কাল এবং সরকার পরিচালনা করা হয়েছে এ নিয়ে পরবর্তীকালে যেসব অপপ্রচার, অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা হয়েছে - সেসবের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন লেখক। যা তরুণ প্রজন্মের সঠিক ইতিহাস জানতে সহায়ক হবে। শামসুজ্জামান খান বলেন, গ্রন্থটি জাতীয় জীবনের এক অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। বঙ্গবন্ধুর গোপনীয় সভা, সরকারের নীতি নির্ধারণের অনেক তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকার পরিচালনার এত অনুপুঙ্খ ইতিহাস এর আগে আর প্রকাশিত হয়নি। মুনতাসির মামুন বলেন, অতীত দেখে ভবিষ্যতের কর্মকৌশল প্রণয়ন করা যায়। গ্রন্থটি আমাদের সেই অতীত তুলে ধরেছে। সেইসঙ্গে এটাও তুলে ধরেছে যে ধর্মের ধ্বজাধারীদের প্রশ্রয় দিয়ে লাভ হয় না। জামায়াতকে, হেফাজতে ইসলামকে তোয়াজ করে লাভ হবে না। শাহরিয়ার কবির বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই বাংলাদেশকে আঁতুড়ঘরে হত্যা করা ষড়যন্ত্র হয়েছিল, সেই ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে হবে। তিনি বলেন, গ্রন্থটিতে তত্কালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমাম বঙ্গবন্ধুর সরকারের যেসব গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেসব বৈঠকের নোট প্রকাশ করেছেন। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক দুর্লভ দলিল হিসাবে বিবেচিত হবে। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে হাক্কানী পাবলিশার্স। দাম ২ হাজার টাকা।