নির্বাচনী অনিশ্চয়তায় অর্থনীতির ধীরগতি

স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিতে বেশকিছু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তা রডরিগো কুবারো বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির কারণেই চলতি বছরে অর্থনীতির গতি শ্লথ হচ্ছে। তবে নির্বাচন পরবর্তীতে অনিশ্চয়তা কেটে গেলে এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। গতকাল সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মধ্যাহ্নভোগ সভায় তিনি অতিথির বক্তৃতা করেন। অ্যামচেম সভাপতি আফতাব উল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদুত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম, আইএমএফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইতেরি ভিনত্রেজ, চেম্বারের নির্বাহী পরিচালক এ গফুর প্রমুখ। সফররত আইএমএফ মিশন প্রধান বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের গতি খুবই দুর্বল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের সংকট প্রভৃতি কারণে জোর গতি পাচ্ছে না বিশ্ব অর্থনীতি। এরপরও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুগপত্ ৬ শতাংশে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ইতিবাচক দিক। তবে সাম্প্রতিককালে প্রবাসগামী বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কমে যাওয়া, ঘনঘন শ্রমিক অসন্তোষ, হরতালসহ অন্যান্য কারণে সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছরে প্রবৃদ্ধির হার কমবে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতেও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। ব্যাংকগুলোতে নন-পারফর্মিং লোনের (এনপিএল) পরিমাণ বেড়েছে। যদিও এটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তিনি সবধরনের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। প্রসঙ্গত, বর্ধিত ঋণ সহায়তার (ইসিএফ) চতুর্থ কিস্তির ঋণ ছাড়ের আগে সার্বিক অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিচার বিশ্লেষণ করতে আইএমএফের এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে সফর করেছে। দু’সপ্তাহব্যাপী এ সফরে তারা অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ আর্থিক খাতের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। গতকাল প্রতিনিধিদলের প্রধান অ্যামচেমের ভোজসভায় সম্মানিত অতিথি যোগ দেন। অ্যামচেম সভাপতি আফতাব উল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গতিশীলতা রয়েছে। এখানে বেশকিছু খাত ব্যাপক এগিয়েছে। রাজনৈতিক স্থিরতা থাকলে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তিনি দুর্বল অবকাঠামোর কথা তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ খুব কমেছে। তিনি মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।