বেনাপোলের কৃষকরা সমিতির নিবন্ধনে আগ্রহ হারাচ্ছে
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৮
শার্শা উপজেলায় জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের সিআইজি গ্রুপের নিবন্ধন নিয়ে স্থানীয় সমবায় ও কৃষি বিভাগের অর্থ বাণিজ্যের কারণে নিবন্ধনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা। চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে ১১০টি সমিতির নিবন্ধন সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়েছে মাত্র ১টির নিবন্ধন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি নিময় অনুযায়ী নিবন্ধন ফি বাবদ মাত্র ৫০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ সদস্যবিশিষ্ট ৭টি পুরুষ ও ৩টি মহিলা সমিতি গঠন করা হয়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১১০টি সমিতি রয়েছে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সমিতির মাধ্যমে অনুদান নিতে সরকার নিবন্ধন করার নির্দেশ দেয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, নিবন্ধন করতে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস, সমবায় কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র বিশ্বাস ও সমবায় দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক ওবায়দুর রহমান বেশি টাকা দাবি করছে। গোগা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ মণ্ডল জানান, তার ইউনিয়নে ১টি সমিতির নিবন্ধন করতে শঙ্কর চন্দ্র বিশ্বাসকে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কায়বা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের একটি সমিতির জন্য ওবায়দুর রহমানকে দিতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা। গোগা ও কায়বা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন করতে মাত্র ৫০ টাকা প্রয়োজন হয় তা তারা জানতেন না।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওবায়দুর রহমান বলেন, বিভিন্ন খাতে খরচ থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে নিবন্ধন বাবদ ৬ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ টাকার একটি অংশ দেয়া হয়।
সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। শঙ্কর চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সিআইজি গ্রুপের নিবন্ধনের বিষয়ে তার দপ্তরে এখনো পর্যন্ত কোন আবেদন পাওয়া যায়নি। সে কারণে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি সঠিক নয়।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, কৃষকদের ঐ সমিতি নিবন্ধন করতে খরচ হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকা। তবে কী কারণে ৬ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে তা তিনি জানেন না।