হাতের নাগালে এসেছিল ছয়বার। কিন্তু তীরে এসে তরী ভেড়াতে না পারায় ছয়টি ফাইনালে ট্রফি হারানোর বেদনায় পুড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। মিরপুর স্টেডিয়াম, কলম্বোর প্রেমাদাসা, দুবাইয়ের মরুপ্রান্তর থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরলেও এবার ডাবলিনে ধরা দিয়েছে ট্রফি জয়ের আনন্দ।
সাফল্যের নতুন দিগন্তে পা রেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। হন্যে হয়ে খুেঁজ ফেরা বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। শুক্রবার ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ঐতিহাসিক ট্রফি জিতে ক্রিকেট বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় উঠেছে টাইগাররা।
সপ্তাহ দুয়েক পরই ইংল্যান্ডের মাটিতে শুরু হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপের আগে এই সাফল্যকে বড় অর্জন বলছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালকরা বলছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে এই শিরোপা। বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ফাইনাল জয়ের সূচনার পর এবার বিশ্বকাপ জয়ে নজর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলছেন, কন্ডিশনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে এই ট্রফি জয় বিশ্বকাপে প্রেরণা যোগাবে বাংলাদেশকে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটা অনেক বড় অর্জন। বিশ্বকাপ সামনে আছে, আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো দল, নিজেদের মাটিতে আয়ারল্যান্ডও শক্ত দল, আবহাওয়া বিরুদ্ধে ছিল। তার মাঝেই আমরা জিতেছি, চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের আগে এই জয় অবশ্যই দলকে বড় প্রেরণা যোগাবে। আশা করি ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা থাকবে।’
শফিকুল হক হীরার মতে, ডাবলিনে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তাদের সেরা ব্যাটিং নৈপুণ্য। মোসাদ্দেকের ম্যাচজয়ী ইনিংস বলে দেয় ব্যাটিংয়ে গভীরতা বেড়েছে বাংলাদেশর। সাবেক এই অধিনায়ক গতকাল বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যত ওয়ানডেতে খেলেছে, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে খেলেছে, তার মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠ ব্যাটিং পারফরম্যান্স। ব্যাটিংয়ে গভীরতা অনেক বেড়ে গেছে। যে কোনো দলের সঙ্গে ৩০০ রান করা সম্ভব।’
শুরুর লগ্ন থেকে দেশের ক্রিকেটে জড়িয়ে থাকা সংগঠক ও বিসিবির পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল ববি বলেছেন, ওয়ানডেতে এটি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের। তার দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে ১৯৮৪ তে রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে, ১৯৮৮ সালে গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নেতৃত্বে ত্রিদেশীয় ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ।
গতকাল বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এটা। অবশ্যই বড় মাইলফলক। বিশ্বকাপের আগে প্রেরণা শুধু ট্রফি জেতা নয়, সবমিলিয়ে খুব ইতিবাচক রেজাল্ট। আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য ভালো।’ বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন, ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতায় এখনই জাতীয় দলের জন্য কোনো বোনাস, পুরস্কারের ঘোষণা আসবে না। বিশ্বকাপের পরই তা ঘোষণা হবে। এই অর্জনে ক্রিকেটারদেরকেই মূল কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। গতকাল ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা এর আগে অনেকবার ফাইনালে হেরেছি। খুব কাছে এসেও হেরেছি। বিশেষ করে শেষ ওভারে গিয়ে হারছিলাম। সবার সহযোগিতায় এবার ট্রফি জেতা সম্ভব হয়েছে। অনেক বড় অর্জন। অনেক আনন্দেরও। এখানে মূল কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারাই এটা সম্ভবে পরিণত করেছে।’
ট্রফি ফসকে যাওয়া অতীতের ছয় ফাইনাল
২০০৯ সালে মিরপুরে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ১৫২ রানের পুঁজির পর ৬ রানে শ্রীলঙ্কার পাঁচ উইকেট ফেলেও ২ উইকেটে হেরেছিল আশরাফুলের দল। ২০১২ সালে আবারও ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হেরেছিল মুশফিকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ২০১৬ এশিয়া কাপ টি-২০ তে ভারত আট উইকেটে হারিয়েছিল মাশরাফি বাহিনীকে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭৯ রানে, মার্চে নিদাহাস কাপ টি-২০ তে ভারতের কাছে শেষ ওভারে চার উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। একই বছরের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে এশিয়া কাপে ভারত তিন উইকেটে পরাজিত করে মাশরাফির দলকে।