তারুণ্যের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:১০
রাজধানীর কোন হোটেলের কোন খাবারের কেমন স্বাদ, এটা তার নখদর্পণে। হোক সেটা পাঁচ তারকা হোটেল কিংবা পুরনো ঢাকার কোন অলিগলির হোটেল। ছাত্রাবস্থায় বন্ধুরা দল বেধে চলে যেতেন তারপর যার যার টাকা দিয়ে সে সে খেতেন-এই ছিল নিয়ম। আর এই অভিজ্ঞতাই তার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল হওয়ার অন্যতম কারণ, জানালেন ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীর ‘মিলঞ্জ’ রেস্তোরাঁর অন্যতম স্বত্বাধিকারী তানভীর আজাদ সজল।
শুধু তানভীরই নন, এরকম অনেক তরুণের হাত ধরেই বদলে যাচ্ছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। খাওয়ার জন্য খাওয়া নয়- আরো বেশি কিছু; সুন্দর পরিবেশন, মনোরম পরিবেশ, আড্ডা সবমিলিয়ে এটা যে উপভোগেরও একটা ব্যাপার তাই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে এখনকার রেস্টুরেন্টগুলো। মূলত তারুণ্যের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে এই ব্যবসার অন্দর-বাহির। বাধা যে নেই তা নয়- কিন্তু তারুণ্যের ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানছে সব বাধা। সে কথাই জানালেন, ‘মিলঞ্জ’-এর স্বত্বাধিকারী তানভীর আজাদ, বে-লিফ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সারোয়ার হোসেন, স্কাইমুন রেস্টুেরেন্টের স্বত্বাধিকারী শেখ মো. মাসুম।
বাধা কি আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এই তরুণদের উত্তর, ‘এ ব্যবসায় প্রতি পদে পদে বাধা। ব্যাংকগুলো সব ব্যবসায় ঋণ দিলেও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ঋণ দিতে চায় না। আমাদের প্রফেশনাল কুক নেই, চাহিদামতো ভালো লোকেশনের প্রচুর ভাড়া পাশাপাশি জিনিসপত্রের দাম এত বেশি যে, খাবারের মান ঠিক রাখা খুব কঠিন। এছাড়া আমাদের পর্যটন শিল্পের অবস্থা ভালো নয়। অথচ পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা রীতিমতো ফুলে-ফেঁপে উঠবে। সর্বোপরি সরকারের কোন পৃষ্ঠপোষকতাই পাওয়া যায় না এ ব্যবসায়। জানান, তারা।
তানভীর আজাদ বলেন, এখনকার তরুণরা কিন্তু পড়াশুনা শেষ করে তারপর ব্যবসায় আসছে। যে কারণে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাই ইতিবাচক। তারা ইন্টারনেটে পুরো পৃথিবী সম্পর্কে জানছে আর সে মানেরই কাজ উপহার দেয়ার চেষ্টা করছে।
মিলঞ্জ নিয়ে তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ৩ বছর হলো বনানীতে এই রেস্টুরেন্ট চালু করেছি। প্রথম দিন থেকেই ভোক্তাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। যে কারণে গুলশানে নতুন আরেকটি রেস্টুরেন্ট করছি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, খাবারের মানের সাথে কখনো আপস করিনি। এছাড়া ভোক্তাদের একটা ভালো পরিবেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের তো বিনোদনের তেমন জায়গা নেই। যে কারণে রেস্টুরেন্টগুলোতে শুধু খাবার নয়, আড্ডার একটা পরিবেশও আশা করেন ভোক্তারা। মিলঞ্জ সে পরিবেশ আমরা উপহার দিয়েছি ভোক্তাদের। তবে এ ব্যবসার সবচেয়ে বড় সমস্যা ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়া। ঋণ না পেলে কিভাবে ব্যবসা করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত দেশের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। উন্নতি করার অনেক জায়গা রয়েছে। বিদেশে যে লেভেলের রেস্টুরেন্ট রয়েছে, আমরা তার ধারেকাছেও যেতে পারিনি।
একই কথা বললেন, সারোয়ার হোসেন। সাথে যোগ করেন, আগে মানুষের বাইরে খাবার প্রবণতা অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন উপলক্ষ পেলেই পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। তাই এ ব্যবসার সম্ভাবনা অনেক বেড়েছে। তবে সরকার খাবারের উপর ১৫ শতাংশ ভাট ধার্য করেছে। যা অনেক বেশি। এটা কমানো উচিত।
শেখ মো. মাসুম বলেন, এ ব্যবসায় শিক্ষিত তরুণদের সম্ভাবনা প্রচুর। তাদের আরো বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। তবে শুধু টাকা কমানোর জন্য এ পেশায় আসলে কেউ ভালো করবে না। ‘ভোক্তাদের ভালো খাবার খাওয়াব’ এ রকম ইচ্ছাও থাকতে হবে। তিনি বলেন, খাবারের মান যদি ভালো হয়, তাহলে ভোক্তারা ছুটে আসবে। এছাড়া এ ব্যবসায় বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সরকারকেও সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।