ফখরুল-আশরাফ সংলাপ চান খালেদা জিয়া

চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুই প্রধান দলের মহাসচিব ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে সংলাপ চান বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে বিএনপি প্রস্তুত। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যত্ তথা সামনের দিনগুলো কি হবে তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করে সরকারের উপর। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সোমবার রাতে এই অভিমত ব্যক্ত করেন চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে। রাষ্ট্রদূতও সংলাপের উপর জোর দেন ও ২৫ অক্টোবরের পর বিএনপি যাতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি দেয় সেই আশা ব্যক্ত করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুইন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই সাক্ষাত্ করেন। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা হয় ঐ বৈঠকে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত লি জুইন বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারগুলো চীন ও বাংলাদেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। চীন বর্তমানে অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করছে ও বহুমাত্রিক সংস্কার নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনসহ চীন-ভারত-মিয়ানমার-বাংলাদেশ-এর মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব। এদেশকে ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে নেবে ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করবে। চীন এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বন্ধু হিসাবে চীন এখানকার রাজনৈতিক অচলাবস্থায় উদ্বিগ্ন। আমরা দেখছি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দল আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার অংশগ্রহণে দেখতে চায়। নেতৃবৃন্দ আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। চীন মনে করে উভয় পক্ষ তাদের সদিচ্ছা প্রকাশ করে একে অপরের প্রতি আস্থা দেখিয়ে সমঝোতা করবেন এবং নির্বাচনের উপযোগী ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাবে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দেশের ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করে সরকারের কর্মকাণ্ডের উপর। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিজ নিজ দলের পক্ষে সংলাপে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। বিএনপি সংঘাতে বিশ্বাস করে না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব সময় কর্মসূচি পালন করছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সুষ্ঠুভাবে তা হবে। বেগম জিয়া আরো বলেন, চীন বাংলাদেশের সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও আন্তরিক বন্ধু। সম্প্রতি সিলেটে জনসভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহায়তার কথা বলেছি ও স্বাগত জানিয়েছি। চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা স্থাপন করবে। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় বেগম জিয়া বলেন, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা বিএনপির নীতি। কোন নাগরিক কি বিশ্বাস করে সেটা বিবেচ্য নয়, বিবেচ্য হল তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিব। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমতাভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সৃষ্টি করবে। রাষ্ট্রদূত লি জুইন সম্প্রতি বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর বিএনপি বড় আন্দোলনে যাবে। এসব কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ হবে আশাকরি।