বেনাপোলে বেকার হয়ে পড়েছে তিন শ যাত্রাশিল্পী
কাজী শাহ্জাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:১৯
বন্দর নগরী বেনাপোলসহ সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার যাত্রা শিল্পীরা আজ দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে। বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০০ যাত্রাশিল্পী। এলাকার এসব শিল্পীদের শীত মৌসুম এলেই বেড়ে যেত কাজের ব্যস্ততা। আর এ ব্যস্ততা শেষ হতো প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। কার্তিক মাস এলেই শুরু হওয়া ব্যস্ততায় হাঁপিয়ে উঠত তারা। তা ছাড়া বিশেষ বিশেষ দিনগুলো যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে এখানকার যাত্রাশিল্পীদের কদর ছিল অপরিসীম।
এলাকার মানুষ ভাবত যাত্রাশিল্পী মানেই সৌখিন নাট্য গোষ্ঠী। দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সাড়া জাগানো শিল্পীদের সংগঠন সৌখিন নাট্য গোষ্ঠী। ঐতিহাসিক যাত্রাপালায় এ গোষ্ঠীটি কয়েকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়ে থাকলেও দিন দিন এটি বিলুপ্তির পথে। তাই শিল্পীরা এখন অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। ১৯৮০ সালে বেনাপোলে সৌখিন নাট্য গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৬০টি যাত্রা ও নাটক করেছে এর সদস্যরা। এ নাট্য গোষ্ঠী যে সমস্ত যাত্রা ও নাটক করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক যাত্রা ‘মোগলে আযম’, ‘শাহ্জাহান’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘আইনের হাত’, ‘মায়ের চোখে জল’, সামাজিক যাত্রা ‘গলি থেকে রাজপথ’, ‘শেষ প্রদীপ’, ‘মিলন মেলা’, ‘কোহিনূর’, ‘সাতপাকে বাঁধা’ ইত্যাদি।
সৌখিন নাট্য গোষ্ঠীর সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রবিউল ইসলাম রবি জানান, যাত্রাশিল্পীদের আজ বড় দুর্দিন। সংগঠনের সাথে জড়িত প্রায় ৩০০ শিল্পী অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।
সৌখিন নাট্য গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আজ আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। বছরে ৬ মাস যাত্রা নাটক করে থাকলেও আজ আর সেটি হয়ে উঠে না। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও এসব যাত্রা নাটকের অনুমোদন মেলে না।’