বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিজিটাল হবে কবে?
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৮
প্রায় চার বছর ধরে আমি ঢাকা থেকে বিমানবন্দর এবং অফিস ছুটির পর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার একজন নিয়মিত রেলযাত্রী। সাশ্রয়ী, নিরাপদ, সময় স্বল্পতা, পরিবেশবান্ধব, সর্বোপরি বিরক্তিকর ও সময়ক্ষেপণকারী ট্রাফিক জ্যাম থেকে রক্ষা পাবার জন্য আমার মতো অফিসগামী হাজারও মধ্যবিত্তের বাহন হচ্ছে রেল। অনেক মহিলা যাত্রীও নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন সঠিক সময়ে অফিস ধরার জন্য। নিয়মিত যাতায়াতের কারণে রেলের যাত্রীসেবার মান, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সবচেয়ে ভোগান্তির কারণ হচ্ছে ট্রেন কখন আসবে বা আদৌ ট্রেন আছে কিনা তা জানার সুবিধার অভাব। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে এখনও রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা বলতে পারেন না ট্রেন কোথায় আছে। কেবলমাত্র যখন একটি ট্রেন পূর্ববর্তী স্টেশনে আসে অথবা স্টেশনের আউটার সিগনালে প্রবেশ করে তখনই তারা বলতে পারেন ট্রেন এসেছে কিনা। অথচ বর্তমান ডিজিটাল যুগে মান্ধাতার আমলের সিস্টেমে রেল কেন চলছে তা বোধগম্য নয়। একই কথা ঢাকা স্টেশনের জন্যও প্রযোজ্য। প্রায়শই দেখা যায় যাত্রা বিলম্বিত দুই-তিনটি ট্রেন রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি হয়তো ১নম্বর প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক তখনই মাইক্রোফোনে ঘোষণা এলো অল্প কিছু সময়ের মধ্যে মহানগর প্রভাতী ৩ নম্বর প্লাটফরম থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। যারা নিয়মিত রেলের যাত্রী এবং রেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারী তারা এ লেখা পড়লে অবশ্যই বুঝতে পারবেন। ১ নম্বর প্লাটফরম থেকে ৩ নম্বর প্লাটফরমে গিয়ে ট্রেনে ওঠা সম্ভব নয়। অথচ যদি প্লাটফরমে কিছুক্ষণ পর পর ডিসপ্লে স্ক্রিনে কোন্ ট্রেন কখন ছাড়বে এবং স্বল্পতম সময়ে ছেড়ে যাবে তা ভেসে ওঠে তাহলে ট্রেন ফেল করার কোনো ভয় থাকতো না এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হতো। আর একটি সমস্যা হচ্ছে মাইক্রোফোনে অস্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ এবং প্রলম্বিত ঘোষণা।
বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাবও প্রকট। প্রায়শই বলা হয়, রেলের আয় কম। কিন্তু আমার মনে হয় সারাদিন যতগুলো ট্রেন চলাচল করে তার সবগুলো ট্রেনের বসার এবং দাঁড়ানোর জায়গা খালি থাকে না এবং দুই একজন ছাড়া সবাই টিকেট কেটেই রেলে ভ্রমণ করেন। সারাবিশ্বে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মূল ভিত্তি ধরা হয় রেলওয়েকে। অথচ আমাদের দেশে ঠিক বিপরীত রেল হচ্ছে আমাদের দেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত খাত। দীর্ঘদিন ধরে শুনছি জয়দেবপুর থেকে ঢাকা তৃতীয় একটি লাইন হবে। অথচ তার কোনো লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এই লাইনেই শহরের ভেতরের এবং শহরতলীর ট্রেন চলার কথা ছিল। আমার মনে হয় সাধারণ গণপরিবহন সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও সময়রক্ষাকারী যোগাযোগ ব্যবস্থাটির কথা কর্তৃপক্ষ ভুলে যেতে বসেছেন অথবা অবহেলা করছেন। অতএব কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রত্যাশা অসংখ্য ভুক্তভোগী রেলযাত্রীর কথা স্মরণ করে প্রতিটি স্টেশনে ডিজিটাল টিভিস্ক্রিন স্থাপন করে রেলের তথ্য প্রদান সহজতর করার ব্যবস্থা নেবেন এবং ঘন ঘন মাইক্রোফোনে রেলের তথ্য প্রদানের ব্যবস্থাও নেবেন। এছাড়া প্রথম শ্রেণির প্রতিটি স্টেশনের একটি তথ্যপ্রদানের মোবাইল নম্বর বড় বড় করে লিখে রাখা যেতে পারে যেন খুব সহজেই যে কেউ ফোন করে যখন তখন যে কোনো তথ্য সেবা নিতে পারেন।
তারিক শামীম (রনী)
শামীম’স’ ৫/এ/ক উত্তর যাত্রাবাড়ী,
ঢাকা ১২০৪