দুই দিনেই বাসের টিকিট শেষ!

আসন্ন ঈদে বাসের কাঙ্ক্ষিত সময়ের টিকিট দুই দিনেই শেষ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকিটে চলছে চরম আকাল। বিক্রির দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবারই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। তারা বলেছেন, কাউন্টারগুলোতে অন্যান্যবারের মতো ভিড় না থাকলেও জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে টিকিট নেই। আর বড় বড় পরিবহন কোম্পানিগুলো বলছে, অধিকাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই এখন টিকিট দেওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে কাল সোমবার থেকে বিআরটিসি বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এছাড়া ঘোষনার আগেই লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর কল্যানপুর শ্যামলী পরিবহনে কাউন্ডারের সামনে ভিড় নেই, সকাল সাড়ে ৯টায় কাউন্টারে এসেই সিরিয়াল পেয়ে যান সবুর মিয়া। চেয়ে বসেন ৩ জুনের টিকিট। কাউন্টারের টিকিট সেলসম্যান তার মুখের দিকে না তাকিয়েই বলে দেন টিকিট শেষ, পরদিন সকালের টিকিট চাইলেও জানানো হয়, শেষ ৪ তারিখ সকালের টিকিটও নেই। তবে অনেক খুঁজে টিকিট মেলে বাসের শেষদিকের একটি সিটের। হানিফ, এসআর, আল-হামরা, শ্যামলী এনআর পরিবহনেও একই চিত্র। অন্যদিকে নাবিল, আগমনী, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলসের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ার কারণে কাউন্ডারগুলোতে ভিড় নেই বললেই চলে।

গাবতলীতে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে বড় কাগজে লিখে রাখা হয়েছে ৩ ও ৪ তারিখের কোনও টিকিট নেই। ওই কাউন্টারের কর্মকর্তা মনির বলেন, আজকে চাপ কম। যা বিক্রি হওয়ার গতকালই বিক্রি হয়ে গেছে।   

এ ব্যাপারে হানিফ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার মোশারফ হোসেন বলেন, কাঙ্খিত ৩০ মে, ৩ ও ৪ জুনের টিকিট ইতোমধ্যেই শেষ। তাই টিকিট দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, নামী দামী অধিকাংশ বাসের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কাউন্টারগুলোতে ভিড় কম থাকার পাশাপাশি টিকিট থাকছে কম সংখ্যক। এ কারণেই দুই দিনের মধ্যেই অধিকাংশ পরিবহনের কাঙ্খিত দিনের টিকেট শর্ট পড়ছে। কালোবাজারে টিকিট বিক্রির অভিযোগ অনেকে করলেও তা সঠিক নয়। কল্যাণপুরের শ্যামলী কাউন্টারের টিকিট কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বাবুও একই কথা বলেছেন। লঞ্চের টিকিট

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কবে থেকে লঞ্চের কেবিনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে সেই ঘোষণা আসেনি এখনও। কিন্তু এর আগেই আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেছে । আগাম টিকিট বিক্রি নিয়ে গতকাল শনিবার মালিকদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে আজ রবিবার লঞ্চ মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে  সদরঘাটে ঈদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা হবে। সেখানেই লঞ্চের আগাম  টিকিট বিক্রির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, ঈদের আগে ৩-৪ দিন ৩০/৩৫ লাখ লোক সদরঘাট দিয়ে নদীপথে গ্রামের বাড়িতে যান।

বিআরটিসির  টিকিট

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসিরি ) চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন,  কাল সোমবার (২০ মে ) থেকে বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট ডিপো হতে ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হবে এবং ১০ জুন পর্যন্ত ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের এই বাস চলাচল করবে। রাজধানীর মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর বাস, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (ফুলবাড়িয়াস্থ সিবিএস-২) হতে আগাম টিকেট বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন,  সরকারের আমদানিকৃত নতুন দেড়শ বাসসহ মোট এক হাজার ৮৯টি বাস ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ৬৪৯টি বাস ঢাকা থেকে এবং ৩৯০টি ঢাকার বাইরে থেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় চলাচল করবে। কোথাও কোনো বাস বিকল হলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে সেখানে সরবরাহ করার জন্য ৫০টি বাস সংস্থায় রিজার্ভ থাকবে।

এ দিকে বিআরটিসির পক্ষ থেকে টিকিটসহ যে কোনো প্রয়োজনে যাত্রীদের মতিঝিল বাস ডিপো (০১৭১২২৮১১২১), কল্যাণপুর বাস ডিপো (০১৭১১৫৭৮৭৪৪), গাবতলী বাস ডিপো (০১৮১৮৪৮৫৩৮৮), জোয়ারসাহারা বাস ডিপো (০১৬১৯৪৫৭২৪৫), মিরপুর বাস ডিপো (০১৭৪০০৯৮৮৮৮), মোহাম্মদপুর বাস ডিপো (০১৭১২২২৪০৩৮), গাজীপুর বাস ডিপো (০১৮১৭৭৮২৮৬৬), যাত্রাবাড়ী বাস ডিপো (০১৭১১৩৯১৫১৪), নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (০১৭১৬৬৮৪১৪৪), কুমিল্লা বাস ডিপো (০১৭৫৮৮৮০০১১) এবং নরসিংদী বাস ডিপো (০১৫৫৩৩৪৯৫৬৭) নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।