‘বিবেকের দংশনে’ পুলিশে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি!

পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমানের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি না হয়েও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন পাবনা শহীদ সরকারি বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন (২৬)। শনিবার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জুন্নুন এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত ৬ মে পাবনা শহীদ সরকারি বুলবুল কলেজে পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে দুই পরীক্ষার্থীর খাতা জব্দ করেন কক্ষ পরিদর্শক বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান। এ ঘটনার জেরে ১২ মে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় কলেজের গেটে শিক্ষক মাসুদুরের উপর হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কয়েকজন সন্ত্রাসী। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে বুধবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার এই  মামলায় সজল ও শাফিন নামে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। মামলায় জুন্নুনের নাম না থাকলেও সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছিলেন শিক্ষক মাসুদুর রহমান।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু বলেন, ছাত্রলীগ নেতা জুন্নুন প্রভাষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিতের মামলার আসামি না হলেও শিক্ষক সমাজ জুন্নুনকে নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগ  নেতৃবৃন্দ তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছে।