রংপুরে চারজনের দাফন পরিবারে শোকের মাতম
রংপুর প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৯
গাজীপুরের শ্রীপুরে আস্ওয়াদ কম্পোজিট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রংপুরের ৪ ব্যক্তির লাশ গতকাল বুধবার দাফন করা হয়েছে। এরা হলেন- মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী ধলারপাড় গ্রামের মতিয়ার রহমানের পুত্র নাঈমুর রহমান (নাঈম), একই গ্রামের ছালেক মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া, পীরগঞ্জের বেলবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম মণ্ডলের পুত্র রাশেদুজ্জামান মণ্ডল ও একই গ্রামের শফিয়ার রহমানের পুত্র খলিলুর রহমান। গতকাল নিহতদের লাশ নিজ নিজ এলাকায় এসে পৌঁছালে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
বাদ জোহর রংপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ, মিঠাপুকুর উপজেলা কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হকের উপস্থিতিতে নিজ নিজ এলাকায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
গতকাল সকালে মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় নিহতদের বাড়ি গিয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়ি ফিরে নতুন স্ত্রীর জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে চেয়েছিলেন মিঠাপুকুরের গার্মেন্টস শ্রমিক নাঈম। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে তার এই ইচ্ছার কথা জানাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। নাঈমের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শাপলা বেগমসহ স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এই এলাকার আরও একজন শ্রমিক ওই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত জানুয়ারি মাসে বিয়ে করে নববধূ শাপলাকে ঘরে তুলেছিলেন পোশাক শ্রমিক নাঈম। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি কাজের সন্ধানে চলে যান গাজীপুরে। শ্রীপুরের পলমল গ্রুপের আস্ওয়াদ কারখানায় চাকরি পান। মাঝে মধ্যে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন।
৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শাপলা বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আগুন লাগার আগের দিন বিকেলে আমার স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা হয়েছে। সে বাড়ি এসে আমার জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে চেয়েছে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না।
একই এলাকার নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক রুবেল মিয়ার বাড়িতেও একই অবস্থা। পোশাক শ্রমিক রুবেল ৭-৮ বছর থেকে স্ত্রী আফরোজাকে নিয়ে আসওয়াদ গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তার পিতা ছালেক মিয়া, মা ও ভাই বাড়িতে বসে বিলাপ করছেন। ছালেক মিয়া জানান, একদিন আগে মোবাইলে রুবেলের সাথে তার মায়ের কথা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এলাকার আরও বেশ কয়েক জন যুবক ওই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
আস্ওয়াদ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পীরগঞ্জের বেলবাড়ি গ্রামের রাশেদুজ্জামান মণ্ডল ও একই গ্রামের খলিলুর রহমানের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। গতকাল দুপুরে তাদের লাশ দাফন করা হয়েছে।