২ কোটি ৭২ লাখ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০১
মানসিক রোগীকে পাগল বলে কবিরাজী চিকিত্সা, ঝাড়ফুকসহ নানা ধরনের কুসংস্কারের মাধ্যমে আরো বেশি অসুস্থ করে তোলা হয়। বর্তমানে দেশে ২ কোটি ৭২ লাখ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত। এটা স্বাস্থ্যসেবার জন্য বড় ধরনের হুমকি। সাধারণ পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষিত পরিবারের সদস্যরাও মানসিক রোগীকে পাগল বলে চরম অবহেলা করে থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা মানসিক রোগীদের প্রতি এধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় এদেশেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বয়োবৃদ্ধের মানসিক স্বাস্থ্য’।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, মানসিক রোগীদের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এবং চিকিত্সার অবহেলার কারণে প্রায়ই তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পাগল বলা মানবাধিকার লংঘন। মানসিক রোগীকে অবহেলা না করে অন্যান্য রোগীদের মত চিকিত্সা সেবা দিলে তারাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।
মানসিক রোগীকে সুস্থ করে তোলার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনরোগ বিজ্ঞানীরা বলেন, মন ভাল না থাকলে পুরো শরীর ভাল থাকে না। এর প্রভাব পড়ে আয়-রোজগারের ওপরও। মনকে সজীব, সচেতন না রাখলে মানসিক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান, সহজেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি চিকিত্সা সেবা দেয়া হবে তত তাড়াতাড়িই তাদের সুস্থ করা সম্ভব।
মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বলেন, উন্নত সেবা ও আধুনিক চিকিত্সা প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীতে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবীণরা বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগের শিকার হচ্ছেন। যা তাদের কর্মদক্ষতা হ্রাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও সামাজিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের এবারের ‘প্রতিপাদ্য বয়োবৃদ্ধদের মানসিক স্বাস্থ্য’ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তারা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুস্থ-সবল কর্মক্ষম জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোহিত কামাল বলেন, মানসিক রোগের কোন একক কারণ নেই। হরমোনাল, জেনিটিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ও বায়োলজীক্যালসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক রোগ দেখা দেয়। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ১৮ ঊর্ধ্বে বয়স্কদের মধ্যে ১৬ ভাগ ও ৬ থেকে ১৭ বছর মধ্যে (শিশু ধরা হয়) ১৮ ভাগ মানসিক রোগে আক্রান্ত। গড়ে ১৭ ভাগ লোক মানসিক রোগে আক্রান্ত। মানসিক রোগ দেখা দিলে পাগল বলে ঝাড়ফুক, কবিরাজি, জিনে ধরেছে বলে নানা ধরনের তাবিজ ও বানটোনার অমানবিক নির্যাতন করা হয়। রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে একই অবস্থা। গ্রামাঞ্চলে অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ কুসংস্কার বেশি। অজ্ঞতা, কুসংস্কার থেকে বের হয়ে দৈহিক রোগের মত মানসিক রোগের চিকিত্সা সেবার জন্য দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। শেরে বাংলানগর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে জানানো হয় শুধুমাত্র স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত র্যালি বের করা হবে। গতকাল বুধবার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ওয়াজিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক সভায় দিবসটি পালনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।