জুয়া
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:২২
মহারাজপুর মেলায় অদ্ভুত এক খেলা শুরু হয়ে গেছে। প্রতিবছরই জমে ওঠে এ খেলা। কিন্তু এবার জুয়ার আসর বসেছে যেকোনো বারের চেয়ে বেশ বড় আকারে। আর কোথা কোথা থেকে লোকজন আসছে জুয়া খেলার জন্য। মুণ্ডমালা, বিল্লি, রামচন্দ্রপুর, কুষ্মাডাঙ্গা থেকে ছুটে আসছে মানুষ। আসছে তারা গরুর গাড়ি, নসিমন, করিমন, মোটর সাইকেল, বাস, সাইকেল যোগে বা হেঁটে।
জুয়ার আসরের ফিরকি ঘুরছে। ফড়ফড় করে শব্দ করছে ফিরকি। পতঙ্গের মতো এসব লোক এই শব্দ লক্ষ্য করে ছুটে আসছে আর পতঙ্গ যেমন আলোর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মরে গিয়ে শান্তি শান্তি মুখ নিয়ে থাকে তেমনভাবে এসব লোক জুয়ার আসরের বোর্ডের কাছে বসে, ছোটাছুটির শেষ দমটা নিয়ে বা ছেড়ে। জুয়ার চরকি ঘুরছে। জুয়ার চাকা ঘুরছে। জুয়াওয়ালার ঠোঁটে সিগারেট। সিগারেটের নীলচে ধোঁয়া হাসতে হাসতে ছড়িয়ে পড়ছে, মিলিয়ে যাচ্ছে। ফড়ফড় করে বিরাট পতঙ্গের মতো ফিরকির চাকা ঘুরছে।
ফিরকির বোর্ডে হরিণ ছাপা, বাঘ ছাপা, মাছ ছাপা, প্রজাপতি, ভাল্লুক ছাপা, ফিল্মের নায়ক-নায়িকা ছাপা। দাড়িপাল্লার নিক্তির মতো ফিরকির দুমাথা ছুঁচালো। দূর থেকে আসা এসব লোক, এসব মাছ, হরিণ, বাঘ-এর ওপর তাদেরকে রাখে, তাদের সবকিছু রাখে। দাড়িপাল্লার নিক্তি কোথায় গিয়ে থামে তা দেখার জন্য প্রতীক্ষা করে। যখন ফিরকি ঘুরতে শুরু করে তখন থেকে না থামা পর্যন্ত তাদের নাকের কাজ বন্ধ থাকে। হূদপিণ্ডের কাজ বন্ধ থাকে। ফিরকি থামে না, অনন্তকাল ঘুরতে থাকে। ফিরকিওয়ালার বিড়ি নির্বাক পোড়ে। পুড়ে পুড়ে নীলচে ধোঁয়া ঘূর্ণি খায়। ফিরকি থামে না। জুয়ার আসরে রাত বাড়ে। জুয়ার আসরের লোকগুলো ফিরকির নিক্তিতে জমে যায়, নড়ে না। বাঘের কাছে নিক্তি থামে হরিণওয়ালার মন খারাপ হয়। মাছের কাছে নিক্তি থামে প্রজাপতিওয়ালার মন খারাপ হয়। প্রজাপতির কাছে নিক্তি থামে নায়িকাওয়ালার মন খারাপ হয়। টাকা পয়সা দম ফেলার ফুরসত পায় না।
আজ পনের দিন হলো মেলা বসেছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মানুষের কমতি নেই। মানুষের সংখ্যা কমছে না। বাড়ছে। সার্কাস চলছে একদিকে। হাতি নাচে, ঘোড়া নাচে, মেয়ে মানুষ নাচে, সং নাচে। কোনো কোনো দিন ফিল্মি নায়ক-নায়িকারা আসে, নাচে, অভিনয় দেখায়। ডিসকো ড্যান্সের প্যান্ডেল বসেছে পনেরো-বিশটা। সেগুলো থেকে থেকে থেকে মাইকিং হচ্ছে—‘হ্যাঁ ভাই, আসুন আসুন... জীবনটাকে ধন্য করে যান... সুদূর নাটোর থেকে আগত একঝাঁক উড়ন্ত বলাকার চূড়ান্ত ড্যান্স... হ্যাঁ ভাই, ডানাকাটা পরিদের বোতাম খোলা ড্যান্স... বাংলার মাটি মাত্র দশ টাকা। চেয়ার বিশ টাকা।’ মনোহারি, কাঠের আসবাব, যাত্রা, মিষ্টির দোকান আরও কত কী বসেছে। রাত শুরু হলে মনোহারি, কাঠের আসবাবের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। জমে ওঠে জুয়ার আসর আর ভ্যারাইটি ড্যান্সের প্যান্ডেল।
জুয়ার আসরে যারা দূর হতে আসে তারা কেউ কেউ এসে একেবারে কয়েকদিন থেকে যায়। বিশেষ করে যারা কুষ্মাডাঙ্গা, বিল্লি, জিয়ালাতলা থেকে আসে তারা এমনই করে। আবার যারা কাছাকাছি থাকে মোটর সাইকেল, নসিমন, করিমন বা হেঁটে আসে তারা। প্রতিদিন আসে প্রতিদিন চলে যায়। সন্ধ্যায় আসে ভোররাতে ফিরে যায়। সকাল হলে জুয়ার বোর্ড তার হাতি, ঘোড়া, হরিণ, বাঘ নিয়ে ঘুমাতে যায়। ড্যান্সের নটিরা ঘুমায়। জেগে ওঠে মনোহারি, কাঠের দোকান আর খেলনার দোকানগুলো। শিশু, কিশোর, নারী প্রায় সবধরনের মানুষের ভিড় হয় মেলায়। কিন্তু বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা এলে এসব দোকান ঝিমুতে ঝিমুতে ঘুমিয়ে যায়। রাত বাড়লে নতুন সূর্য ওঠে গনগনে হয়ে জুয়াপট্টিতে, ডিসকো ড্যান্সের প্যান্ডেলে, যাত্রার স্টেজে। রঙিন আলো, অদ্ভুত বাজনা বেজে ওঠে। জুয়ার আসরে ফড়ফড় করে ঘোরে চরকি। জুয়ার বোর্ডের ওপর আগরবাতি জ্বলে। জুয়াড়ি এসে হাজির হয়। মিনহাজ বঙ্গা এসে হাজির হয় চরকির ঘূর্ণিতে।
মিনহাজ বঙ্গার বাড়ি মিনটোলা। জুয়ার আসর থেকে তার বাড়ি দেড় কিলোমিটারেরও কম। সন্ধ্যা লাগলে কেউ কোথাও আর তাকে আটকে রাখতে পারে না। ঠিক ঠিক এসে হত্যে দিয়ে পড়ে। পূর্বে বাপ-দাদার প্রচুর বিষয় সম্পত্তি ছিল। এখন এসে দাঁড়িয়েছে একেবারে তলানিতে। মেলার প্রথম দিন থেকেই সে এসে হাজির হয়। বারেয়া তার বউ। বারেয়া পা ধরে পড়ে, হাত ধরে পড়ে। মিনহাজ বঙ্গা কিছুই মানে না। বউকে দু-চার ঘা দিয়ে চলে আসে। জুয়ার ফিরকি তাকে টেনে নেয়, ঘূর্ণি হয়ে, ঘূর্ণিঝড় হয়ে।
বউটা মাগরিব পড়ে, এশা পড়ে। দোয়া করে স্বামীর জন্য। খেতে বসে মনে মনে প্রার্থনাটা চলতে থাকে। খেয়ে বিছানায় যায়, বিছানায় গিয়েও প্রার্থনা চলে—‘হে আল্লাহ, স্বামীকে জ্ঞান দাও, ভালো করে দাও, সুখ দাও, শান্তি দাও।’ ভোররাতের নামাজ পড়ে আবার শোয়, ভোর হয়ে গেলে তখন মিনহাজ বঙ্গাকে চরকির ঘূর্ণি ছাড়ে। ফিরে আসে। বারেয়া রেগে যায়—‘এতক্ষণে ফেরার সময় হলো। সারারাত এভাবে বাইরে থাকার তো কোনো মানে হয় না।’ মিনহাজ বঙ্গা চিত্কার দিয়ে ওঠে—‘এই, এই মাগি, একটা কথা বলবি না, পুরুষ মানুষ সারারাত বাইরে থাকি আর ভেতরে থাকি তাতে কী সমস্যা? মাগি আর একটা কথা বলবিতো মুখ ভেঙে দেব।’ বারেয়া মেজাজ ঠিক রাখতে পারে না, সেও চিত্কার করে বলে ওঠে—‘ওরে আমার পুরুষরে, তুমি আবার পুরুষ নাকি, বেটি মানুষের অধম আবার বলে পুরুষ।’ মিনহাজের নিজেকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। আবার পিটুনি শুরু করে। পিটুনি দিয়েই বিছানায় ঘুমুতে যায়। প্রতিদিন এভাবে বের হবার সময় আর ফেরার সময় পিটুনি খায় বারেয়া। তারপরেও মিনহাজ ঘুমিয়ে গেলে বারেয়া বাড়ির কাজ করে, রান্না করে। রান্না হলে ডেকে খেতে বলে মিনহাজকে। বারেয়া কাঁদে আল্লার দিকে মুখ করে, মন করে।
মিনহাজ বঙ্গা প্রতিরাতে টাকা রেখে আসে জুয়ার বোর্ডে। তার টাকা চরকির ঘূর্ণিতে ঘুরতে ঘুরতে ঢোকে জুয়া খেলাইয়ের কাপড়ের ব্যাগে। কোনো কোনোদিন মিনহাজ ফিরে এসে বলে—‘বুঝলে বারেয়া, তুমি মনে কর আমি প্রতিদিন হারি, তা কিন্তু নয়। আজ কিন্তু পাঁচ হাজার জিতেছি আমি।’ বারেয়া তাচ্ছিল্যের সুরেই বলে—‘তাই না কী! তা কই টাকা? মিনহাজ হয়তো হাজার দেড়েক টাকা পকেট থেকে বের করে দেখাল। বারেয়া বলে—‘এই তোমার পাঁচ হাজার। মুখটা তার রঙিন হয়ে ওঠে না। মিনহাজ বলে—‘আরো আরো যারা খেলছিল তারা মিষ্টি খেতে চাইল, মদ খেতে চাইল, খাওয়ালাম।’
মহারাজপুর মেলার চরকি ঘোরে। বোর্ডের ওপর বাঘ, ভাল্লুক, ময়ূর, ঘোড়া, নায়িকা নেচে ওঠে। টাকা নাচে, আগরবাতির ধোঁয়া সাপের মতো এঁকে বেঁকে জুয়াড়িদের নাকে মুখে ঢোকে। টাকার নৃত্য, সুন্দরী টাকার হত্যা চলছে পুরো মেলা জুড়ে। টাকা খল খল করে হাসে, কারণ টাকা একজনের হাতে হত্যা হয়ে আরেকজনের হাতে গেলেই প্রাণ ফিরে পায়। টাকা হারানো লোকজন ঘরে ফেরে। একদিন মিনহাজ সব টাকা দ্রুতই হেরে গেলে, সে তার হাতের ঘড়িটা খুলে রাখে বোর্ডের ওপর। জুয়াওয়ালা বলল—‘আমি টাকা ছাড়া অন্যকোনো জিনিস দিয়ে খেলাই না।’ মিনহাজ রেগে যায়—‘অন্য বোর্ডওয়ালারা খেলায় তুমি খেলাও না কেন? তোমাকে খেলাতে হবে।’ লোকটা বলে—‘অন্যেরা খেলাক আমি খেলাব না।’ মিনহাজ বলে—‘খেলাতে হবে, আলবত খেলাতে হবে।’ লোকটা বলে—‘ঘড়িতে হবে না, তোমার বউকে বসাও বোর্ডে।’ মিনহাজ বঙ্গা লাফিয়ে ওঠে লোকটাকে মারার জন্য। অন্যেরা তাকে ধরে ফেলে, দূরে সরিয়ে দেয়। মিনহাজ বঙ্গা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায় আর রাগে ফুলতে থাকে। লোকজন তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। সে দারুণ প্রতিশোধস্পৃহা নিয়ে ফিরে আসে। এবার মারার জন্য নয়, লোকটাকে হারিয়ে সব টাকা জিতে নেবার জন্য। জুয়াড়িদের মধ্যে একজনকে সে একটু দূরে ডেকে বলে—‘ভাই, কিছু টাকা ধার দেন। আমি শালাকে হারিয়ে তোমাকে টাকা শোধ দিয়ে দেব আর যদি আবার হেরে যাই তবে কালকে এসে দিয়ে দেব।’ লোকটা ছাড়বার পাত্র নয়, হেসে বলল—‘যদি হেরে যাও, যদি কালকে টাকা ফেরত না দাও তবে তোমার বউয়ের সাথে আমাকে একবার থাকতে দিতে হবে।’ মিনহাজের হাত আবার নিশপিশ করতে থাকে একটা ঘুষি দিয়ে তার নাকটা থোঁতা করে দিতে, কিন্তু সে চেপে যায়। ওই লোকটাকে হারাতে চায়। সে একটা ঘৃণার দৃষ্টি থেকে বলে—‘ঠিক আছে তা-ই হবে।’ লোকটা তাকে টাকা দেয়। সে খেলতে থাকে। সে জিততে থাকে। বেশকিছু টাকা তার হাতে চলে আসে। সে মরিয়া হয়ে ওঠে। সে খেলে। সে জিতে। কিন্তু একসময় ব্যাপারটা উল্টে যায়। সে আবার হারতে থাকে। সে হেরে যায়। তখন যে লোকটা তাকে টাকা ধার দিয়েছিল সে বলে—‘মনে থাকে যেন।’ এবার সে দারুণভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। সে কিছু বলে না। দারুণভাবে নিজের প্রতি ঘৃণা হয় তার। জুয়ার আসর ভেঙে গেলে সে বাড়ি ফেরে। সারাদিন ধরে ঘুমায়। সে আজ কোনোভাবেই জুয়ার আসরে যাবে না।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। তার প্রতিজ্ঞার শক্তি ঢিল হয়ে আসে। কিছু টাকা নিয়ে সে জুয়ার ঘূর্ণির দিকে ছুটে যায়। জুয়ড়িরা তাকে দেখে মিটি মিটি হাসে। সে জুয়ার ঘূর্ণিতে আর পড়বে না বলে মনে করে। যে লোকটার কাছে থেকে টাকা নিয়েছিল তাকে টাকা ফেরত দিয়ে চলে যাবে মনে করল। কিন্তু লোকটাকে সে দেখতে পায় না। মিনহাজ বঙ্গা উসখুস করে দাঁড়িয়ে থাকে। জুয়ার চরকি ঘোরে, চরকির ঘূর্ণি লাগে চোখে। সে একদান খেলবে কি না ভেবে দেখে। সে সরে আসে। ঘূর্ণি তাকে টানে। সে ঘূর্ণিতে পড়ে যায়। ডিসকো ড্যান্সের নটিদের বেসুরো কণ্ঠের গান ভেসে আসে। দারুণ বাজনা বাজে চারদিকে। জুয়ার বোর্ডের হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ভাল্লুক, নায়ক-নায়িকা নড়েচড়ে ওঠে। মিনহাজের হাতের মুঠি খুলে যায়। তার টাকা কিছুক্ষণের মধ্যেই চরকির ফড়ফড় শব্দের তোড়ে উড়ে যায়। এবার টাকা ধার দেওয়া লোকটা এসে তার ঘাড়ে হাত দিয়ে মুচকি হাসে। মিনহাজের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। বলে— ‘তোমাকে খুঁজছিলাম, পাইনি, তোমার জন্যইতো টাকা এনেছিলাম। হেরে গেলাম।’ লোকটা বলে—‘আমি অত বুঝি না। তুমি তোমার শর্ত পূরণ কর।’ মিনহাজ তার পায়ে পড়ে, কাকুতি-মিনতি করে। লোকটা নাছোড়। মিনহাজ বলে—‘আর একটা চান্স দাও, আর কিছু টাকা দাও, এবার না পারলে তখন তোমার যা ইচ্ছা হয় কোরো।’ লোকটা রাজি হয়। মিনহাজ রাত শেষ হবার আগেই হেরে যায়। মুখ কালি করে সে দাঁড়িয়ে থাকে। লোকটা এসে সোজা বলে—‘চলো।’
মিনহাজের বউ অপরূপ সুন্দরী। এত সুন্দরী বউ দু-চার গাঁয়ের ভেতর আছে কি না সন্দেহ। ফজরের আজান দিচ্ছে। বউটা উঠেছে। অজু করেছে। গামছা দিয়ে হাত মুখ মুছছে, এমন সময় বাড়ির সদর দরজার কড়া বজ্রপাতের মতো শব্দ করে ওঠে। মিনহাজ বঙ্গা ফিরে এসেছে। এখনো অন্ধকার আছে। এত তাড়াতাড়ি সে ফেরে না। কী ব্যাপার, এমন ভাবতে ভাবতে দরজা খোলে। মিনহাজ বঙ্গার সাথে আর একটা লোক। বউটা ঘোমটা দেয়। মিনহাজ লোকটাকে নিয়ে ঘরে আসে। বউকে ডাকে আর মুখ দিয়ে কথা বলতে পারে না মিনহাজ বঙ্গা। লোকটা তাড়া দেয়—‘বলো, ভাবিকে বলো।’ মিনহাজ বলে। বউটা আকাশ থেকে পড়ল। সে চিত্কার দেয়—‘অসম্ভব! এ হতেই পারে না।’ মিনহাজ বলে—‘হতেই হবে। আমি তোমার স্বামী বলছি।’ বারেয়া বলে— ‘কক্ষনো না, আমার প্রাণ থাকতে এটা হবে না। যাও আমি অজু করে এসেছি, নামাজ পড়ব।’ বারেয়া ঘুরতে গেলেই মিনহাজ আর লোকটা দুজনেই তাকে চেপে ধরে। বারেয়া চিত্কার করতে চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরে মিনহাজ। বারেয়া হাত-পা ছুঁড়ে ছুটে যেতে চেষ্টা করে পারে না। তার শাড়ি দিয়েই খাটের সাথে চার হাত-পা বেঁধে ফেলে, মিনহাজ মুখ চেপে ধরে থাকে। লোকটা তার শর্তের প্যাঁচ খুলতে শুরু করে। শর্তের প্যাঁচ খোলা শেষ হলে সে দ্রুত বেরিয়ে চলে যায়। লোকটা চলে গেলে, মিনহাজও বাঁধারত অবস্থায় বারেয়ার সাথে উপগত হয়। এতক্ষণ বারেয়া রাগে ফুলেছে, জোরাজোরি করেছে, ছটফট করেছে কিন্তু কাঁদেনি। মিনহাজও বাঁধারত অবস্থায় উপগত হয়েছে দেখে বারেয়া কেঁদে ওঠে। চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে। মিনহাজের লক্ষ সেদিকে আর নাই।
জুয়াড়িদের অনেকেই ব্যাপারটা জেনে যায় আর মিনহাজকে কয়েকদিন ধরে টাকা ধার দিতে থাকে, মিনহাজ হারতে থাকে আর প্রতিদিনই মিনহাজ আর অন্য একটা লোক এসে বারেয়াকে খাটের সাথে বেঁধে ফেলে। এমন ব্যাপার মেলার পুরো একমাস ধরে চলে। একদিন মিনহাজ ঘুমের ভেতর ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে ওঠে, সে দেখে—একটা বিরাট সাপ তাকে গিলে খাচ্ছে। সে দৌড়ে পালায়, দৌড়াতে দৌড়াতে একটা গুয়ের পুকুরে পড়ে। সেখানে আরও বিষাক্ত সাপ তাকে ছোবলাতে শুরু করে। বিষ যন্ত্রণায় সে ছটফট করে। এভাবে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ঘুম ভেঙে গেলে সে ভীষণ ভয় পায়। উঠে দাঁড়ায় আর এবার মনের ভেতর তার দারুণ একটা বিক্রিয়া শুরু হয়। সে উঠে দাঁড়ায়, গোসল করে, মনে মনে বলে—‘শুদ্ধ হলাম।’
সন্ধ্যা পার হবার উপক্রম হয়েছে। মিনহাজ বসেই আছে দেখে বারেয়া আসে— ‘কী ব্যাপার বের হওনি এখনো।’ মিনহাজ বলে—‘না বউ, আর যাব না জুয়ায়।’ বউ চমকে ওঠে—‘সে কী কেন? যাও যাও।’ মিনহাজ বলে—‘উপহাস করো না বউ, সত্যি আর যাব না। তোমার ওপর অত্যাচার আর করব না।’ বারেয়া বলে—‘না, না, যাও। তুমি পুরুষ মানুষ, বাইরে না গেলে চলবে কেন। যাও।’ বারেয়া তাকে পাঠানোর জন্য জোরাজোরি করে। মিনহাজ বউয়ের দিকে তাকিয়ে ভালো করে দেখে, সে দেখে বুঝে নেয় বারেয়া তাকে উপহাস বা অভিমানে বলছে না, সত্যি সত্যিই বলছে। সে বলে—‘ওরে শালী এই তোর অবস্থা?’ সে বারেয়াকে ক্ষোভে, রাগে, দুঃখে, অবিশ্বাসে পেটাতে থাকে। আর সেই রাতেই গলায় দড়ি দেয় মিনহাজ