রাজনীতিতে শিশু ব্যবহারকারীরা
রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৪
‘শিশু অধিকার সুরক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে শিশুরা। সেই সঙ্গে তারা বাজেটে তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা, শিশুনীতিমালার বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি গণমাধ্যমে শিশুদের উপস্থাপনার উপর রাষ্ট্রীয়নীতিমালার বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে শিশুপ্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার সকালে ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স এসেম্বলি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সেভ দি চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিশু প্রতিনিধিরা এসব দাবি জানায়। সভায় শিশু প্রতিনিধি পায়েল ও ঝুমু সালমা শিশুদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারে তাদের ৬টি দাবি যুক্ত করার দাবি জানায়।
এসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেলিন, জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুপ্তা ইয়াসমিন, সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন। আরো বক্তব্য রাখেন, ইনসিডিন বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী প্রমুখ।
নূহ-উল-আলম লেলিন বলেন, শিশুশ্রম আমাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু আমাদের এখানে দরিদ্র বাবা-মা আছে যাদের কারণেও অনেক শিশু কাজে যুক্ত হচ্ছে। শিশুশ্রম, শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। আমরা সেটা বন্ধ করতে চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, শিশুদের যারা রাজনীতিতে ব্যবহার করে তারা আসলে রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত । এদের চিহ্নিত করতে হবে।
সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে কিন্তু আমাদের সিস্টেম লসের কারণে বাংলাদেশের প্রতি অনেকে আঙ্গুল তোলে। বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দুর্বলতার জন্য আমাদের রাজনীতির মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থা চলে আসে। তিনি বলেন, আমি দুই দলের রাজনীতির বন্ধুদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, এই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মৌলবাদরা কী করে বলতে প্রশ্রয় পায় যে, ‘মেয়েরা পড়বে ক্লাস ফোর পর্যন্ত, তার বেশি নয়’। জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, কিংবা যারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার কারণেই আজ তারা এ ধরনের কথা বরতে পারছে। আমরা অনেক উন্নতি করেছি। কিন্তু এখানো আমাদের চার লাখ শিশু কেবল ঢাকা শহরে গৃহকর্মে নিয়োজিত আছে। আমাদের এই ৪৫ভাগ শিশুকে তার অধিকারগুলো দেয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব, সমাজের নৈতিক দায়িত্ব,পরিবারের নৈতিক দায়িত্ব। এই শিশুরা বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা মানুষ হিসেবে যেন বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
সাগুপ্তা ইয়াসমিন বলেন, সকল ধর্মীয় গোড়ামি দূর করে জাতীয় নারীনীতি পুরো বাস্তবায়ন করলে নারীদের অনেক অধিকার বাস্তবায়িত হবে। তিনি শিশুদের ঝরে পড়া রোধের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, জানুয়ারির এক তারিখে বই পাওয়ার কারণে এখন স্কুলে ঝরে পড়ার হারও কমে এসেছে।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, শিশুদের জাতীয় শিক্ষানীতি ছাড়া অন্য কোন তথাকথিত শিক্ষায় যুক্ত করা যাবে না। শিশুদের কোন ভাবে নির্যাতন করা যাবে না। রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে আক্রান্ত হলে তার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে সেই রাজনৈতিক দলকে।
এনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, পদে পদে আমাদের শিশু অধিকারগুলো লঙ্ঘিত হচ্ছে। ন্যায়পালের মাধ্যমে এসব মনিটরিং করে বের করতে হবে।
রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শিশুদের কোন ভাবে শোষণ করা যাবে না। এখন শিশুদের শৈশব নেই, কিশোরের কৈশোর নেই। আমাদের দেশের ৮ লাখ গৃহকর্মীর মধ্যে চারলাখই মেয়ে শিশু। গৃহকর্মে ও হোটেল রেস্টুরেন্টে শিশুরা প্রতিনিয়িত নির্যাতিত হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে শিশুদের জন্য ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেন তিনি। তিনি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেয়ার কথা বলেন।