চট্টগ্রাম টেস্ট

মমিনুল-মার্শালই এখন মূল ভরসা

দিনের শুরু আর শেষের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল; এই দু’সময়েই খেলায় থাকলো বাংলাদেশ। প্রথম দুটি ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৩০০-৩৫০’র নিচে অল আউট করার সম্ভাবনা সৃষ্টি; আর শেষ বেলায় মমিনুল-মার্শালের অপরাজিত ১০০ ছুঁই ছুঁই রানের জুটিতে আবারও সুদিনে ফেরার আভাস। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের এই দুটি নির্দিষ্ট সময়ের কথা বাদ দিলে বাকি সময়টা আধিপত্য বিস্তার করেই খেলেছে সফরকারীরা। সকালে প্রায় দেড় সেশন ব্যাট করে ৪৬৯ রান করার পর বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই দুটি উইকেট উপড়ে ফেলে বাংলাদেশকে আরেকটি অসহায় আত্মসমর্পণের দাঁড়প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল। তবে অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব ও মমিনুল ইসলামের ৯৫ রানের জুটিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই উইকেটে ১০৩ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আট উইকেট হাতে নিয়ে এখনও ৩৬৬ রান পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা। প্রথম দিনে ২৮০ রান নিয়ে দিন শুরু করা নিউজিল্যান্ড গতকাল প্রথম ওভাবেই পেসার রুবেল হোসেনের বলে হারিয়ে বসে কোরি অ্যান্ডারসনকে। ঠিক পরের ওভারেই কোরি অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে দেন আব্দুর রাজ্জাক। এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের সংগ্রাম। টেল এন্ডারদের সবাই ক্রিজে শিকড় গেড়ে থাকায় আর উইকেট পাওয়াটাই হয়ে উঠছিল না বাংলাদেশের বোলারদের। সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জন ওয়াটলিংয়ের সুবাদে। ১০৩ রান করে গড়লেন নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। সাথে যোগ হলেন শেষ ব্যাটসম্যান ট্রেন্ট বোল্ট (৫২*)। এই দুজনের ১২৭ রানের জুটির কল্যাণেই ৪৬৯ রানে গিয়ে থামলো কিউইদের ইনিংস। দশম উইকেট জুটিতে এটা দশম সর্বোচ্চ রানের জুটি। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই বাজিমাত করেন নিউজিল্যান্ডের দুই সিমার। প্রথম ওভারেই আউট হন তামিম ইকবাল। নিজ শহরে ব্যাটিং করতে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের অফস্ট্যাম্পের সামান্য বাইরের বল খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানেই ফিরে যান তিনি। এরপর ফিরে আসেন আরেক ওপেনার এনামুল হক। ডগ ব্রেসওয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে এনামুল করেন মাত্র তিন রান। বাকিটা সময় স্বাচ্ছন্দ্যেই কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা মার্শাল আইয়ুব স্বভাবসুলভ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৭৪ বল খেলে ২১ রানে অপরাজিত আছেন। অন্যদিকে মমিনুল হক পেয়ে গেছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। ক্রিজে নেমেই হাত খুলে ব্যাটিং শুরু করা ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সপ্তম ও অস্টম ওভারে মোট ২৯ রান তুলে দ্রুতই এগিয়ে যান হাফ সেঞ্চরির দিকে। দিনের খেলা শেষে অপরাজিত আছেন ৭৭ রানে। অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যানই আশার প্রদীপ জ্বেলে রেখেছেন।