‘অন্যের প্ররোচনায় কারখানায় হামলা করবেন না’

গার্মেন্টস শ্রমিকদের কারখানায় হামলা বা ভাংচুর না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কারখানা থাকলে নিজেরা বাঁচবেন। কারো প্ররোচনায় এটি ধ্বংস করলে কারখানাও থাকবে না নিজেরাও কাজ হারাবেন। সুতরাং এটিকে রক্ষা করুন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল পণ্যের বৃহত্ প্রদর্শনী বাটেক্সপো উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে কাল শনিবার। মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস খাত নিয়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে। সেজন্য মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতামূলক সম্পর্ক থাকতে হবে। কারখানা, মালিক ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক—এটা মনে রাখতে হবে। তেঁতুল তত্ত্বের মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের ঘরে বন্দী রাখার চেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তেঁতুল তত্ত্ব বাজারে এসেছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী তাতে সমর্থন দিয়েছেন। কাজ করে বাঁচার অধিকার সবার আছে। নারীদেরও কাজ করতে হবে। কোন তত্ত্বই কাজে আসবে না। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গার্মেন্টস খাত নিয়ে দেশি ও বিদেশিদের চক্র ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেন। তিনি এ খাতের উদ্যোক্তাদের এ বিষযে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আরেকটি রানা প্লাজা ট্রাজেডি সংঘটিত হলে সইতে পারবেন কি না মনে রাখতে হবে। বিজিএমইএ’র একগুচ্ছ দাবি আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেন। দেশে ডলারের মূল্য হ্রাস ও প্রতিযোগী দেশ ভারতের মুদ্রা রুপির অবমূল্যায়নে রপ্তানি খাত ক্ষতির শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে এই খাতের জন্য সরকারের সহায়তা দাবি করেন তিনি। রপ্তানির ক্ষেত্রে উেস কর বিদ্যমান দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ, বাউশিয়ার গার্মেন্টস শিল্প পার্ক নির্মাণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি বিনাশুল্কে আমদানির সুযোগ, রপ্তানিকারকদের জন্য ডলারের স্বতন্ত্র বিনিময় হার চালু করা, ব্যাংক ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, পোশাক খাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা যা প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, মজুরি বোর্ড মজুরি ঘোষণা দেয়ার পর শিল্প এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংক, বীমা, বন্দরের আয় কেবল একটি খাতের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকবে তা হতে পারে না। জবাবে প্রধানমন্ত্রী রপ্তানির উেস কর ও বাউশিয়ার শিল্পপার্ক নির্মাণে যন্ত্রপাতি আমদানির শুল্কসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দেন। অন্যদের মধ্যে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত প্রথম সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব, দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, রিয়াজ বিন মাহমুদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনাসহ কূটনৈতিক, গার্মেন্টস উদ্যোক্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।