ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের কর্মকাররা
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২৮
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন দক্ষিণাঞ্চলের কর্মকার সমপ্রদায়ের লোকজন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দা, ছুরি ও বটি তৈরির কাজ করছেন তারা। কোরবানি উপলক্ষে অর্ডার নেয়া ধারালো অস্ত্র ঠিক সময়ে তৈরি করে দিতে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে কর্মকারদের। বছরের এ সময়টাতে কোন বিশ্রাম থাকে না তাদের।
নগরীর সবচেয়ে বড় কামারপাড়া হিসাবে পরিচিত হাটখোলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার ২৬টির বেশি দোকানে ব্যস্ততার কোন শেষ নেই। শতাধিক কর্মকার নতুন নতুন দা, ছুরি ও বটিসহ নানান ধারালো অস্ত্র তৈরি করছে। কেউ আবার পুরনো দা, বটি ঝালাই দিয়ে ধারালো করছে। এসব দোকানের কারিগররা জানান, কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে কাজ করতে হবে।
শুধু হাটখোলার কামারপট্টিই নয়, নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন হাট- বাজারের কামারপট্টির কর্মকারদের ব্যস্ততা একই রকম। কথা বলার কোন ফুসরত নেই। পানি পানের ফাঁকে সুধীর কর্মকার জানালেন, লোহার সাথে তার ৩২ বছরের লড়াইয়ের জীবন কাহিনী। সারা বছরই প্রত্যেক বাড়িতে দা, বটি, ছুরির মতো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসব জিনিসের চাহিদাও থাকে সবসময়। তবে কোরবানির ঈদ এলে এর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে অধিকাংশ কামারের বক্তব্য, সারা বছর তেমন কোন কাজ থাকে না। রোজার মাসে যেমন মুড়ির কদর তেমন কোরবানির সময় ধারালো অস্ত্রের কদর বেড়ে যায়। এ সময়টা ব্যবসার মৌসুম বলে তারা আগে থেকেই কিছু ছুরি ও চাকু তৈরি করে রাখেন। কোরবানির আগের মুহূর্তে এগুলো রেডিমেড বিক্রি করা হয়।
কর্মকাররা জানালেন, গ্রাম থেকে আসা সাধারণ মানুষ এসব রেডিমেড চাকু, ধারালো দা ও বটি কিনে থাকেন। আর কসাইরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী পছন্দের ছুরি, চাকু, বটি অর্ডার দিয়ে তৈরি করেন। তবে পুরনো অস্ত্র ধারালো করতে মজুরি নেয়া হয় ২৫ থেকে ১শ’ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বড় ছুরির জন্য খরচ পড়ে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, চাপাতি পাওয়া যায় ৬শ’ টাকার মধ্যে। ক্রেতারা লোহা সরবারহ করলে মজুরি পড়ে ৩শ’ থেকে ৪’শ টাকা।