যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের যোগ্যতা
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৩
নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সারা দেশজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর এবারই প্রথম যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। শিক্ষার্থীদের নতুন এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দুটি মডেল টেস্ট নেওয়ার পরিকল্পনা করে, যার একটি আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে অন্যটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং হবে। সরকারের এ উদ্দেশ্য মহত্। কিন্তু যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন এবং এর উত্তর প্রদানে শিক্ষার্থীরা কতটুকু যোগ্য তা বিবেচনার দাবি রাখে। যে বিষয়টির সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পরিচিত নয় বা যে গল্পের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিচয় নেই সেই অপরিচিত বিষয়ের উত্তর প্রদানে শিক্ষার্থীরা কতটুকু যোগ্য তা বোধগম্য নয়। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৩, চূড়ান্ত মডেল টেস্ট, সেনানিবাস, ঢাকা এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বাংলা পরীক্ষা। নমুনা প্রশ্নটি ছিল এরকম (প্রদত্ত অনুচ্ছেদ পড়ে ১, ২, ৩ এবং ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও)—
স্বার্থপর মানুষ তাদের প্রয়োজনে খেয়ালখুশিমতে প্রকৃতির সৃষ্টিকে ব্যবহার করছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। তাই মানুষের বিরুদ্ধে দোয়েল পাখির অনেক অভিযোগ। মানুষ তাদের বাঁচতে দিচ্ছে না। তারা বনের গাছপালা কেটে সাফ করে ফেলছে। পাখি ও জীবজন্তুদেরও মানুষ আহার্য হিসেবে খেয়ে ফেলছে। পশুপাখি ধরে ধরে খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখছে। এছাড়া মানুষ মানুষকে মারার জন্য নানারকম অস্ত্র বানাচ্ছে, বোম মারছে। মানুষের বিরুদ্ধে দোয়েল পাখির অভিযোগ এরকমই।
১ নম্বর প্রশ্নে সঠিক উত্তরের ক্ষেত্রে প্রশ্ন ছিল: ক. কুমড়োর উপকারী বন্ধু কে? (১)
২ নম্বর প্রশ্নে শূন্যস্থান পূরণে প্রশ্ন ছিল: ঙ. পোকামাকড় গাছের... (১)
৪ নম্বর প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রশ্ন ছিল: খ. দোয়েল পাখি কুমড়োর কী উপকার করে? (৫)
ওপরে যে অনুচ্ছেদ দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে ১ নম্বর, ২ নম্বর এবং ৪ নম্বর প্রশ্নের কি কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে? সবচেয়ে বড় কথা—অনুচ্ছেদে বর্ণিত গল্পটি যদি পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্য থাকতো সেক্ষেত্রে কোমলমতি শিশুরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হতো। যে বিষয় বা যে গল্পের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় নেই সে বিষয়ে শিশুরা কীভাবে যোগ্যতার পরিচয় দেবে। এ যেন সাঁতার না জানা শিশুকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া। আমেরিকার রাস্তার সঙ্গে ঢাকার রাস্তার তুলনা করতে দিলেও তো শিশুরা তা করতে পারবে না। কারণ আমেরিকার রাস্তা এবং ঢাকার রাস্তার সঙ্গে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশুরই পরিচয় নেই। তাহলে বিষয়টা হচ্ছে অজানা গল্প বা বিষয়ের মাধ্যমে শিশুদের যোগ্যতা কতটা নিরূপণ করা যাবে বা আদৌ সম্ভব কিনা। যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন নিয়ে ঢাকার একটি এলাকা শুধু নয় বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার চিত্রও প্রায় একই রকম। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবাই বিভ্রান্তির মধ্যে আছে।
যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে এমন একটি বিষয় নির্বাচন করা উচিত যার সঙ্গে বাংলাদেশের সকল শিশুরই কমবেশি পরিচয় আছে এবং অনুচ্ছেদের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তর লুকিয়ে আছে। যিনি বা যাঁরা প্রশ্ন পদ্ধতির সঙ্গে জড়িত তাঁদেরও উচিত শিশুদের মানসিকতা বোঝা এবং কোন ধরনের উত্তর তাদের কাছে প্রত্যাশা করা হচ্ছে তা বুঝতে সক্ষম হওয়া। আরো একটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত—অনুচ্ছেদের সঙ্গে প্রশ্নের সংশ্লিষ্টতা থাকছে তো !
ঢাকা