ফিলিপাইনে মাইক্রো ক্রেডিট সম্মেলনে ড. ইউনূস

ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমেই দরিদ্র দূর করা সম্ভব

নোবেল জয়ী একমাত্র বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এ জন্য কেবলমাত্র ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ দরকার। ক্ষুদ্র ঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমেই দরিদ্রদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ফিলিপিন্স ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক মাইক্রো ক্রেডিট সম্মেলন ২০১৩ এর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। গতকাল শুক্রবার এই সম্মেলন শেষ হয়। এটি ছিল ১৬তম আন্তর্জাতিক মাইক্রো ক্রেডিট সম্মেলন। প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে। এবারের সম্মেলনে সারা পৃথিবী থেকে সহস্রাধিক প্রতিনিধি ফিলিপাইনের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জড়ো হন। তারা তাদের বেস্ট প্র্যাকটিস এবং অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করা ও নীতি- নির্ধারণের বিষয়গুলো আলোচনা করার জন্য এখানে সমবেতন হন। উল্লেখ্য, ফিলিপাইন হলো বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আমান্ডো টেট্যাঙ্কো জুনিয়র, ফিলিপাইনের বাজেট সেক্রেটারি ফ্লোরেনসিও অ্যাবাড, ইন্দোনেশিয়ার সমবায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী সাইরিফুদ্দিন হাসান, ফিলিপাইনের মাইক্রো-ফিনান্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মিলা ম্যারকাদো বাংকার, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মাইক্রো-ক্রেডিট সামিট ক্যাম্পেইন এর পরিচালক ল্যারি রেড, ফিলিপিনো পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক কারেন ডাভিলা প্রমুখ এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তা ছিলেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এর একটি ধারণকৃত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটির উদ্বোধন করা হয়, যেখানে তিনি ৬৯টি দেশ থেকে সম্মেলনে উপস্থিত প্রায় এক হাজার প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্রঋণের অগ্রযাত্রার মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যতা দূরীকরণে কাজ করার আহ্বান জানান। এই সম্মেলনের যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় সেগুলো হলো “ বিল্ডিং দ্যা ইকোসিস্টেম ফর ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশান হোয়াইল প্রটেক্টিং দ্যা ক্লায়েন্টস”, “সোশ্যাল বিজনেস ঃ ক্রিয়েটিং সলিউশন ফর সোশ্যাল প্রব্লেমস” , “গোয়িং দ্যা এক্সট্রা মাইল ঃ ফ্রম সেফটিনেট টু পাথ ওয়েজ আউট অব প্রভার্টি” এবং “রিচিং ডিপার এন্ড লোয়ার কস্টস ঃ দ্যা পাথ এ্যাহেড ফর ডিজিটাল সারভিসেস”।