টিসিবির বেশিরভাগ পিঁয়াজ কালোবাজারে!
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৮
ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে পিঁয়াজের বাজার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য ১০ মেট্রিক টন পিঁয়াজ সরবরাহের পরও দাম সহনীয় হয়নি। বরং গত ৬ অক্টোবরের পর থেকে প্রতিদিন পিঁয়াজের দাম কেজিতে গড়ে ১০ টাকা করে বেড়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাজশাহী মহানগরীর ও আশেপাশের খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পিঁয়াজ ১১০ এবং ভারতীয় পিঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে ৫৫ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ বিক্রির দাবি করা হলেও গ্রাহক পর্যায়ে টিসিবি’র ডিলাররা লোকদেখানো পিঁয়াজ বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টিসিবি’র বেশিরভাগ পিঁয়াজ কালোবাজারে চলে গেছে। ফলে পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ কোনো কাজে আসেনি। পিঁয়াজ আমদানিকারক ফুল মোহাম্মদ শুক্রবার বলেন, ভারতে পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণেই দাম বেড়েছে। এদিকে ভারতে দুর্গাপূজার ছুটির কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ৪ দিনের জন্য সেখানকার পাইকারি বাজারে কেনাবেচা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এই ক’দিন ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতিদিন পিঁয়াজের দাম বাড়ছে।
রাজশাহী মহানগরীর কেন্দ্রস্থল সাহেব বাজারে ও খুচরা বাজারে উপরোক্ত দামে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। গত সোমবার দেশি পিঁয়াজের দাম ছিল প্রতিকজি ৭০ টাকা, মঙ্গলবার একই পিঁয়াজ ৮০ টাকায়, বুধ ও বৃহস্পতিবার ৯০ টাকা এবং শুক্রবার দাম বেড়ে ১১০ টাকায় ঠেকেছে। শুক্রবার বাজারে পিঁয়াজ কিনতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতারা হতভম্ব হয়েছেন। ক্রেতারা জানান, এর আগে পিঁয়াজের দাম এভাবে বাড়েনি। অবশ্য পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের প্রতিকেজিতে দামের ফারাক প্রায় ১৫ টাকা। শুক্রবার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি দেশি পিঁয়াজ ৯৫ এবং ভারতীয় ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, পিঁয়াজের দাম দফায় দফায় বাড়লেও বাজার মনিটরিং কমিটির চোখে পড়ছে না।
এদিকে টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট প্রথম দফায় ৬ মেট্রিকটন এবং ৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় ৭ মেট্রিকটন পিঁয়াজ ৪৭ টাকা কেজি দামে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। তখন সাধারণের চাহিদা সত্ত্বেও টিসিবি পিঁয়াজ সরবরাহ করতে পারেনি। ফলে রাজশাহীতে পিঁয়াজের দাম বাড়ছিল। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় টিসিবি’র মাধ্যমে ৫৫ টাকা কেজি দামে ৬ মেট্রিক টন, ৪ অক্টোবর ১৮ মেট্রিকটন এবং সর্বশেষ ৮ অক্টোবর ১০ মেট্রিক টন আমদানিকৃত ভারতীয় পিঁয়াজ টিসিবি’র মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এসব পিঁয়াজ রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও নওগাঁ, ঈশ্বরদী, পাবনায় ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ পিঁয়াজের চালান আসার পর সাধারণ মানুষ টিসিবি ডিলারের ট্রাকে পিঁয়াজ বিক্রি করতে দেখেননি।
এ ব্যাপারে টিসিবির রাজশাহী অফিস প্রধান মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, নগরীর সাহেব বাজার, সপুরা ম্যাচ ফ্যাক্টরী, লক্ষ্মীপুর ও নওদাপাড়ার ৪টি এবং পুঠিয়ার একটি পয়েন্টে ৫৫ টাকা কেজি দামে পিঁয়াজ বিক্রি শুরুর দু’দিনেই সমস্ত পিঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া কিছু পিঁয়াজ নওগাঁ, ঈশ্বরদী, পাবনায় বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে টিসিবি’র ডিলাররা দাবি করেছেন, বাজার দরের চেয়ে টিসিবির পিঁয়াজের দামের ফারাক বেশি হওয়ায় দু’দিনেই তাদের মাধ্যমে সরবরাহকৃত ১০ মেট্রিকটন পিঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে।