এই ফ্লাইওভার ঈদুল আজহার উপহার
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার পবিত্র ঈদুল আজহার উপহার। ঈদ উপলক্ষে ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কুড়িল ফ্লাইওভার ছিল ঈদুল ফিতরের উপহার। এর আগে হাতিরঝিল চালু করে নববর্ষের উপহার দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ঈদের আগে প্রায় ৩০টি জেলার মানুষের যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে এই ফ্লাইওভার অনেক উপকার করবে। কারণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টি জেলার সংযোগ সড়ক এটি। রাজধানীবাসীর জন্য এটা ঈদ উপহার। ঈদের আগে উদ্বোধনের কারণে মানুষের কষ্ট লাঘব করবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার বিকেলে চার লেন বিশিষ্ট এই ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যা বলি তা পালন করি। আমরা সবসময় কাজকে বড় করে দেখি। মানুষের প্রয়োজনকে বড় করে দেখি। যে কারণে এতো তাড়াতাড়ি এই কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমি এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
রাজধানী ঢাকা শহরে নিজের প্রথম আসার স্মৃতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ১৯৫২ সালে প্রথম ঢাকা শহরে আসি এবং ১৯৫৪ সাল থেকে ঢাকায় বসবাস শুরু করি। আমরা ঢাকাকে কাছ থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে দেখেছি। ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করাই আমাদের উদ্দেশ্য।
ঢাকাবাসীর জীবন সহজ করতে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে তখন শুধু দিতেই আসে। কোন কিছু নিতে আসে না। আমরা ফ্লাইওভার, উড়াল সেতু, কমিউটার ট্রেন চালু, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করেছি। তিনি বলেন, আমরা মর্যাদা নিয়ে চলব। কারো কাছে হাত পাতব না। আমাদের দেশেই অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের অনেক মেধা রয়েছে। তাই সবকিছুর জন্যে আমাদের অন্যের কাছে হাত পাততে হবে না।
মোহাম্মদ হানিফের স্মৃতিচারণ করে আবেগ্লাপুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। আমি তখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম। আমার ঠিক ডান পাশে হানিফ ভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা আমাকে ঘিরে রাখেন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টার হানিফ ভাইয়ের মাথায় এসে লাগে। রক্ত তার মাথা থেকে আমার গায়ে টপটপ করে পড়তে থাকে। তিনি মারা যাবেন জেনেও আমাকে রক্ষা করেছিলেন। তার স্মরণে আমরা এ ফ্লাইওভারের নামকরণ করেছি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মোঃ শহিদ খান, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক মো. আশিকুর রহমান। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাগণ, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পরে বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান করেছি। এছাড়া ঢাকার মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি শেষ করেছি এবং অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আমরা ক্ষমতায় এসে বুড়িগঙ্গার চারপাশের অবৈধ দখল মুক্ত করেছি।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আবার নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাই মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। তিনি অনেক অসাধ্য কাজ সমাপ্ত করেছেন। ঢাকাবাসীর পানি সংকট সমাধান করেছেন। বিদ্যুত্ সংকট সমাধান করেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন, অনেক পরিকল্পনা এবং বিপুল প্রেরণা রয়েছে। যা দিয়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছেন। বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে শেখ হাসিনার মতো নেতার অনেক দিন বেঁচে থাকার প্রয়োজন আছে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এ ফ্লাইওভারটি অনেক আগেই নির্মাণ সম্পন্ন করা যেত। কিন্তু নির্মাণ কাজ চলাকালে বিএনপি-জামায়াত ৮১ দিন হরতাল দিয়ে কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম বলেন, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে করা হয়েছে। সে কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগে এটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা সরিয়ে কাজ করলে ফ্লাইওভার এত দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব হতো না। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থাপনা রেখেই কাজ করতে বলেন এবং কীভাবে করা যাবে তারও একটি নির্দেশনা দেন।
ওবায়দুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কাজটি করতে বলেছিলেন তখন তাদের মনে হয়েছিল সেভাবে করা সম্ভব না। পরে প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রয়োজনে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের কথা বলেন। কানাডার পরামর্শক এসে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কাজটি করতে বলেছেন, ঠিক সেভাবেই করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা অবকাঠামোগত কাজ করি। কিন্তু এটা আমার কাছে বিস্ময় যে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকৌশল জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন। আমরা কেবল এই কাজ না, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেছি। তিনি চেয়েছেন এই এলাকার সব মানুষ যেন ফ্লাইওভারের সুবিধা পায়। এ জন্য সবগুলো সড়কের সাথে এর সংযোগ করা হয়েছে।